পাতিদার ঝড়ে কুপোকাত গুজরাট, ‘প্রিন্স’ শুভমানকে হারিয়ে ফাইনালে ‘কিং’ কোহলির আরসিবি

আইপিএলের মঞ্চে ফের একবার ইতিহাস গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। মঙ্গলবার টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সকে ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে রাজকীয় ভঙ্গিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল বিরাট কোহলির দল। এক বছর আগেও যে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রথম ট্রফির জন্য ব্যাকুল ছিল, বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এখন দ্বিতীয় শিরোপার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এদিন ক্রিকেটপ্রেমীরা সাক্ষী থাকলেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদারের এক অবিশ্বাস্য ও বিধ্বংসী ব্যাটিং তাণ্ডবের।
রজতের অবিশ্বাস্য তাণ্ডব ও আরসিবির রেকর্ড স্কোর
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৪ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর খাড়া করে আরসিবি। আইপিএলের প্লে-অফ ইতিহাসে এটিই এখন সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। উদ্বোধনী জুটিতে বিরাট কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ারের পর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। রশিদ খান ও কাগিসো রাবাডার মতো বিশ্বমানের বোলারদের মাঠের বাইরে পাঠিয়ে মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন তিনি। ৫টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে কোনো অ-ক্রিকেটীয় শট ছিল না, যা গুজরাটের বোলিং লাইনআপকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। কোহলি ও ক্রুণাল পাণ্ডিয়া ৪৩ রান করে অধিনায়কের যোগ্য সঙ্গ দেন। বিপরীতে, গুজরাটের নামী বোলাররা রান আটকানোর কোনো পথই খুঁজে পাননি।
গুজরাটের ব্যাটিং বিপর্যয় ও ফাইনালের টিকিট
২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে গুজরাট টাইটান্স। অতিরিক্ত টপ-অর্ডার নির্ভরশীল এই দলটি চাপের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ৫১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। ফর্মে থাকা অধিনায়ক শুভমান গিল মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন, জস বাটলার ২৯ ও সাই সুদর্শন ১৪ রান করে ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে রাহুল তেওয়াটিয়া লড়াকু ৬৮ রান করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায় গুজরাটের ইনিংস।
টপ-অর্ডারের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং রানের পাহাড় তাড়া করার মানসিক চাপের কারণেই গুজরাটকে এই বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে। আরসিবি সরাসরি ফাইনালে উঠলেও গুজরাটের সামনে অবশ্য এখনই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ফাইনালে যাওয়ার আরও একটি সুযোগ পাবেন শুভমান গিলরা, তবে তার জন্য ব্যাটিং বিভাগের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি।