চিনের একচেটিয়া দাপট রুখতে এবার ভারতের হাত ধরল আমেরিকা!

চিনের একচেটিয়া দাপট রুখতে এবার ভারতের হাত ধরল আমেরিকা!

বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজার যখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ভারত ও আমেরিকা। বিশ্ব বাজারে চিনের একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করেছে এই দুই রাষ্ট্র। ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং ‘রেয়ার আর্থ’ উপাদানের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করাই এই মেগা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য।

দিল্লিতে কোয়াডভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে হায়দরাবাদ হাউসে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক (মউ) সই হতেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খনিজ বাণিজ্যে বেজিংয়ের দীর্ঘদিনের দাদাগিরি বন্ধ করতেই এই কৌশলগত জোট গঠন করা হয়েছে।

বেজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক স্মার্টফোন থেকে শুরু করে গ্রিন এনার্জি কিংবা উইন্ড টারবাইন—উন্নত প্রযুক্তির সব কিছু তৈরিতেই রেয়ার আর্থ উপাদান অপরিহার্য। বর্তমানে এই বাজারের সিংহভাগ চিনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা প্রায়শই বিভিন্ন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে সরবরাহ বন্ধ করার কৌশল নেয়। এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই দুই দেশের মধ্যে খনন, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) সংক্রান্ত যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেল রুখবে এই চুক্তি

আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে দুই দেশের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চিনের নাম না করে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো দেশ যেন এই খনিজ উপাদানকে হাতিয়ার করে ভারত বা আমেরিকার অর্থনীতিকে ব্ল্যাকমেল করতে না পারে। ভারতের ‘প্যাক্স সিলিকা’ ইনিশিয়েটিভে যোগ দেওয়ার পর এই মিনারেল চুক্তি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

সেমিকন্ডাক্টর চিপ, যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে এই বিশেষ উপাদানগুলি ছাড়া পথ নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিল্লির এই চুক্তির ফলে ভারত ও আমেরিকা একটি নিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই খনিজ নিজেদের মধ্যে আদানপ্রদান করতে পারবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের ইভি ও প্রযুক্তি শিল্পে জোয়ার আসবে, ঠিক তেমনই বিশ্ব বাজারে বেজিংয়ের একচ্ছত্র দাপট ও ব্ল্যাকমেল করার ক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *