বঙ্গ জয়ের পর বিজেপির নিশানায় আঞ্চলিক দল, দেশজুড়ে শুরু তীব্র ‘অপারেশন লোটাস’!

দেশজুড়ে বিজেপির অভূতপূর্ব জয়যাত্রার আবহে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। লোকসভা ভোটে জয়ের পর এবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক দলগুলোকে ভেঙে সংঘ পরিবারকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলা। রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে গুঞ্জন, বিরোধীদের কেবল ভোটে হারিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না গেরুয়া শিবির, বরং এক সুপরিকল্পিত “অদৃশ্য অপারেশন লোটাস”-এর ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এর ফলে দেশজুড়ে একঝাঁক আঞ্চলিক পার্টি এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে ধুঁকছে।
ওড়িশা ও বিহারে জোরালো ধাক্কা
এই অভিযানের জেরে ওড়িশা কার্যত বিরোধীশূন্য হওয়ার পথে। নবীন পট্টনায়েকের শত চেষ্টা সত্ত্বেও বিজু জনতা দল (বিজেডি) ভাঙন রুখতে পারছে না। দলের রাজ্যসভা সাংসদ দেবাশিস সামান্তারি ইস্তফা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় রাজ্যসভায় বিজেডির আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫-এ। অন্যদিকে, পাশের রাজ্য বিহারেও লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) বড় ধাক্কা খেয়েছে। দলের মহিলা শাখার প্রাক্তন রাজ্য সভানেত্রী রিতু জয়সওয়াল তাঁর অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে শামিল হয়েছেন।
তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা ও ঝাড়খণ্ডে নজর
অঙ্গ ও কলিঙ্গের পর বিজেপির পরবর্তী প্রধান টার্গেট অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে তৃণমূলের ৪২ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিজেপি। সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে নিয়ে গুঞ্জন তীব্র হলেও তৃণমূল নেতৃত্ব একে ‘ঘোলা জলের জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যাঁরা চলে যেতে চান, যেতে পারেন।” পূর্ব ভারতে বিজেপির পরবর্তী নিশানা ঝাড়খণ্ড, যেখানে আগামী ১৮ জুনের রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ঘোড়া কেনাবেচার আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। একই অবস্থা পাঞ্জাব ও তেলেঙ্গানাতেও, যেখানে আপ ও বিআরএস-এর বিধায়কদের নিশানা করছে গেরুয়া শিবির।
এক ঝলকে
- বঙ্গ বিজয়ের পর দেশজুড়ে আঞ্চলিক দলগুলি ভেঙে ‘বিরোধী মুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
- ওড়িশায় বিজেডির দেবাশিস সামান্তারি এবং বিহারে আরজেডি-র রিতু জয়সওয়াল দল ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
- লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের ১৯ জন সাংসদকে দলে টানার জন্য বিজেপি যোগাযোগ রাখছে বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা।
- আগামী ১৮ জুনের রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডে বিধায়ক কেনাবেচার আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে জেএমএম।