স্পিকারের ঘরে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়কদের সাক্ষাৎ ঘিরে বিধানসভায় জোর জল্পনা

স্পিকারের ঘরে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়কদের সাক্ষাৎ ঘিরে বিধানসভায় জোর জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দিনভর বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও যখন সাক্ষাৎ ঘটছিল না, ঠিক তখনই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

স্পিকারের ঘরে মুখোমুখি সাক্ষাৎ

অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর ঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে প্রবেশ করেন সন্দীপন ও ঋতব্রত। ফলে স্পিকারের ঘরের ভেতরেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হন তৃণমূলের এই দুই বিধায়ক। তবে এই বৈঠকে তাঁরা একাই ছিলেন না; সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাপস রায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং শঙ্কর ঘোষের মতো শীর্ষ নেতারাও। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বৈঠকের প্রকৃত প্রেক্ষাপট বা উদ্দেশ্য এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সৌজন্যের আড়ালে রাজনৈতিক বার্তা

বৈঠক শেষে ঘর থেকে বেরোনোর সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই সাক্ষাৎকে সম্পূর্ণ ‘সৌজন্যমূলক’ বলে দাবি করেন। তিনি জানান, মূলত স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে এলেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ায় তাঁরা সৌজন্য বিনিময় করেছেন। নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধীদের ভূমিকা পালন করবেন।

ঘন ঘন সাক্ষাৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এর আগে দিল্লির পুরনো বঙ্গভবনেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ জল্পনা তৈরি হয়। যদিও ঋতব্রত দাবি করেছেন, রাজ্যসভার সাংসদপদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলোর অতিরিক্ত ভাড়া মেটানো এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজের জন্য তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আচমকাই দেখা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দিল্লিতে এবং এখন কলকাতায় পরপর দুই শিবিরের এই মুখোমুখি সাক্ষাৎ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার আগামী দিনের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *