তৃণমূলে মহাবিক্ষোভ, এবার মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদও ছাড়ছেন কাকলি!

তৃণমূলে মহাবিক্ষোভ, এবার মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদও ছাড়ছেন কাকলি!

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মহাবিক্ষোভের ঝড় শুরু হয়েছে। বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়ার পর এবার সর্বভারতীয় মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদও ছাড়তে চলেছেন বর্ষীয়ান সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরদিনই নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে কাকলির উপস্থিতি এবং তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে মস্ত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মঙ্গলবার কল্যাণী জওহরলাল নেহরু অডিটোরিয়ামে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা তিন জেলার উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে সশরীরে যোগ দেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর সঙ্গে দেগঙ্গা, স্বরূপনগর এবং হাড়োয়ার মতো এলাকার আরও ৬ জন তৃণমূল বিধায়কও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বতন জমানাকে আক্রমণ ও শুভেন্দুর বৈঠক

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাম না করে পূর্বতন তৃণমূল জমানার প্রশাসনিক শৈলীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বারাসাতের চারবারের সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, আগে এভাবে কখনও প্রশাসনিক বৈঠক হতো না এবং তাঁদের মতো জনপ্রতিনিধিদের মুখ খুলে কিছু বলার সুযোগটুকুই দেওয়া হতো না। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকার বিরোধীদের প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকত না, কিন্তু বর্তমান সরকার সব জনপ্রতিনিধিকে ডেকে গঠনমূলক কাজ করতে চায়। যদিও জল্পনা ওড়াতে কাকলি পরে দাবি করেন, প্রশাসন সবার জন্য এবং এটি কোনও দলীয় কর্মসূচি নয়।

আইপ্যাক বিতর্ক ও চার দশকের সম্পর্কে ফাটল

তৃণমূল সূত্রের খবর, ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে এবার সর্বভারতীয় মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী পদ থেকেও ইস্তফা দিতে চলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এর আগে লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলে সমাজ মাধ্যমে চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর গত ২৪ মে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠি লিখে বারাসাত জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন।

জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার চিঠিতে নাম না করে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন কাকলি। তিনি স্পষ্ট লিখেছিলেন, ভুঁইফোঁড় কোনও সংস্থার ওপর ভরসা না করে দলের পুরনো ও সৎ কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে ভালো হতো। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভার পর জেলা সভাপতি এবং এবার মহিলা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে একে একে সরে যাওয়া এবং বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দেওয়া স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জোড়াফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ চার দশকের সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *