আড়াই বছরের ফর্মুলার জের, কর্নাটকে কি এবার সিদ্দারামাইয়া যুগের অবসান?

কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের অন্দরে নেতৃত্ব বদলের জল্পনা এবার চরম আকার ধারণ করেছে। দলীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। এমনকি তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে এনে রাজ্যসভার সদস্য করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। যদিও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি অস্বীকার করেছে, তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আগামী ৮ জুনের রাজ্যসভা নির্বাচনের আগেই দাক্ষিণাত্যের এই রাজ্যে বড়সড় রাজনৈতিক রদবদল ঘটতে পারে।
নেতৃত্ব সংকটের মূল কারণ
এই টানাপোড়েনের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে কর্নাটকে কংগ্রেসের সরকার গঠনের সময়কার এক তথাকথিত সমঝোতা। উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের অনুগামীদের দাবি, সরকার গঠনের সময় ‘আড়াই বছরের ফর্মুলা’ ঠিক হয়েছিল। অর্থাৎ, মেয়াদের প্রথম অর্ধেক সিদ্দারামাইয়া এবং বাকি অর্ধেক সময় শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। বর্তমান সরকারের আড়াই বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসতেই শিবকুমার শিবির সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের জন্য চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, সিদ্দারামাইয়া এই ধরনের কোনো ফর্মুলার কথা অস্বীকার করলেও জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধী সরাসরি নির্দেশ দিলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
দিল্লিতে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। সিদ্দারামাইয়া যদি শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দেন, তবে তা কর্নাটকের রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হলে তাঁর অনুগামীরা সন্তুষ্ট হলেও, সিদ্দারামাইয়ার মতো প্রভাবশালী অনগ্রসর শ্রেণির নেতার মান-অভিমান সামলানো কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আবার নেতৃত্ব বদল না হলে শিবকুমার শিবিরের অসন্তোষ সরকারকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে। ফলে লোকসভা নির্বাচনের পর দক্ষিণ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নিজেদের দুর্গ বাঁচিয়ে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোই এখন কংগ্রেস হাইকমান্ডের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।