বুড়ো বয়সে কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না, পোস্ট অফিসের এই স্কিমে ঘরে বসেই মাসে মিলবে ২০ হাজার টাকা!

বুড়ো বয়সে কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না, পোস্ট অফিসের এই স্কিমে ঘরে বসেই মাসে মিলবে ২০ হাজার টাকা!

বার্ধক্যের দিনগুলোতে আর্থিক স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পাওয়া প্রতিটি মানুষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রবীণ নাগরিকদের এই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পোস্ট অফিস নিয়ে এসেছে ‘সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম’ (SCSS)। এটি একটি সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প, যা প্রবীণদের নিশ্চিত উপার্জনের পাশাপাশি শতভাগ বিনিয়োগ সুরক্ষার আশ্বাস দিচ্ছে। বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের যেকোনো নামী ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের (এফডি) চেয়ে অনেকটাই বেশি।

বিনিয়োগের নিয়ম ও নিশ্চিত আয়ের হিসাব

এই বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্পে প্রবীণ নাগরিকরা ন্যূনতম ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে একবার বিনিয়োগ করলে প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। কোনো বিনিয়োগকারী যদি এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা জমা রাখেন, তবে ৮.২ শতাংশ সুদের হারে তিনি বছরে মোট ২,৪৬,০০০ টাকা সুদ পাবেন। সেই হিসাবে প্রতি তিন মাসে মিলবে ৬১,৫০০ টাকা, যার গড় মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ২০,৫০০ টাকা। ফলে অবসর জীবনে নিয়মিত খরচের জন্য প্রবীণদের আর অন্য কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না।

কর ছাড়ের সুবিধা এবং যোগ্যতার শর্তাবলী

বাজারের ওঠানামা বা কোনো অর্থনৈতিক ঝুঁকির ভয় না থাকায় এই স্কিমটি প্রবীণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া, আয়কর আইনের ৮০সি ধারার অধীনে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। সাধারণত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা এই অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্য। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ৫৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরাও এই স্কিমের সুবিধা নিতে পারেন। ৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড যুক্ত এই অ্যাকাউন্টটি দেশের যেকোনো পোস্ট অফিস বা অনুমোদিত ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সহজেই খোলা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *