সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি কি সত্যিই মিলবে, নতুন শ্রম কোডের সুবিধা নাকি ১২ ঘণ্টার কাজের চাপ

নতুন শ্রম কোড অন ওয়েজেস (সেন্ট্রাল) রুলস, ২০২৬ ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে চার দিন কাজ ও তিন দিন ছুটির নতুন সমীকরণ নিয়ে। কর্মসংস্কৃতির এই সম্ভাব্য পরিবর্তনকে ঘিরে চাকরিজীবীদের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হলেও, আইন বিশেষজ্ঞরা একে কোনো নিশ্চিত অধিকার নয়, বরং একটি নমনীয় বিকল্প হিসেবেই দেখছেন। নতুন এই নিয়মে সাপ্তাহিক মোট কাজের সময় না কমিয়ে কেবল দিনসংখ্যার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
কাজের চাপ অপরিবর্তিত, বাড়বে দৈনিক কর্মঘণ্টা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংস্থা চাইলে কর্মীদের সপ্তাহে চার দিন কাজ এবং তিন দিন বিশ্রামের সুযোগ দিতে পারে। তবে ভারতের শ্রম আইন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মোট কর্মঘণ্টা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এর অর্থ হলো, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করে, তবে কর্মীদের দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে। সলোমন অ্যান্ড কোং-এর পার্টনার জার্মেইন পেরেইরা এই বিষয়ে জানিয়েছেন, নতুন নিয়মে মোট কাজের চাপ কমানো হয়নি, শুধু সময়সূচি সংকুচিত করা হয়েছে। এছাড়া, নিয়ম অনুযায়ী সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিন এবং সেই সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্থাগুলি একতরফাভাবে এই নিয়ম কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। জেএসএ অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড সলিসিটর্স-এর পার্টনার সাজাই সিংহ স্পষ্ট করেছেন যে, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করতে কর্মীদের সম্মতি প্রয়োজন এবং একে স্বয়ংক্রিয় অধিকার হিসেবে ভাবা ভুল হবে। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করালে কর্মীদের দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম দিতে হবে এবং ১২ ঘণ্টার কাজের মধ্যে বাধ্যতামূলক বিরতি ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। পিএসএ-র ম্যানেজিং পার্টনার প্রীতি সুরি জানান, এই কাঠামো নমনীয় হলেও ওভারটাইম, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সংস্থাগুলিকে অব্যাহতি দেয় না। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এটি কর্মীদের ক্লান্তি ও আইনি জটিলতা বাড়াতে পারে।
বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি ও ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জ
কেন্দ্রীয় নিয়মে এই নমনীয়তা থাকলেও এর বাস্তবায়ন অনেকাংশে রাজ্যভিত্তিক আইনের উপর নির্ভর করছে। শারদুল আমরচাঁদ মঙ্গলদাস অ্যান্ড কোং-এর পার্টনার পূজা রামচন্দানি এবং সিএমএস ইন্ডাসল’র পার্টনার দেবজানি আইচ উল্লেখ করেছেন যে, বিভিন্ন রাজ্যের শপস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট আইন এখনও দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজের সীমা নির্ধারণ করে রেখেছে। অনেক রাজ্য এখনও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা অনুমোদনকারী সংশোধনী না আনায় তাত্ত্বিকভাবে এটি সম্ভব হলেও বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন।
পাশাপাশি, সব শিল্পক্ষেত্রের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে। সারাফ অ্যান্ড পার্টনার্স-এর পার্টনার আদিল লাধার মতে, আইটি বা জ্ঞানভিত্তিক পরিষেবা ক্ষেত্রগুলি সহজে এর সাথে মানিয়ে নিতে পারলেও স্বাস্থ্য পরিষেবা, লজিস্টিক্স, আতিথেয়তা এবং উৎপাদন শিল্পের মতো ক্ষেত্রে ১২ ঘণ্টার শিফট চালানো অত্যন্ত জটিল। ফলে, ভারতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ আপাতত একটি শর্তসাপেক্ষ বিকল্প মাত্র, যার ভবিষ্যৎ রাজ্য সরকার ও করপোরেট সংস্থাগুলির সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রয়েছে।