বকরি ইদের দিনক্ষণ নিয়ে ধোঁয়াশা, ক্যালেন্ডারের টানাপোড়েনের মাঝেও উৎসবের আমেজ

ভারতসহ গোটা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মেতে উঠেছেন পবিত্র ইদ আল আধা বা বকরি ইদের উৎসবে। তবে ২০২৬ সালের বকরি ইদ ঠিক কবে পালিত হবে— ২৭ মে নাকি ২৮ মে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইসলামিক হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চাঁদের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই উৎসবের দিন নির্ধারিত হওয়ায় বিভিন্ন দেশে এবং হিজরি ক্যালেন্ডারে ভিন্ন ভিন্ন তারিখের উল্লেখ দেখা যাচ্ছে।
চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ইসলামিক ক্যালেন্ডার মূলত চাঁদের আবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আকাশে একফালি নতুন চাঁদ দেখা দেওয়ার মাধ্যমেই নতুন মাসের সূচনা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একেক দেশে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চাঁদ দেখা যায়। হিজরি ক্যালেন্ডারের দ্বাদশ তথা চূড়ান্ত মাস ‘ধুল হিজাহ’-এর চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ইসলামের চাঁদ দেখা কর্তৃপক্ষ ইদ উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এবার কিছু হিজরি ক্যালেন্ডারে ২৭ মে এবং কিছুতে ২৮ মে ইদ পালনের কথা বলা হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ধুল হিজাহ মাসের চাঁদ আগেই দৃশ্যমান হয়, তবে সেখানে ২৭ মে বকরি ইদ পালিত হচ্ছে, অন্যথায় তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ মে অফিশিয়ালি ইদ পালন করা হবে।
ত্যাগের মহিমা ও উৎসবের আবহ
ইদ আল আধা বা বকরি ইদ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি মহানবী হজরত ইব্রাহিমের আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য, বিশ্বাস ও গভীর আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পবিত্র দিনে ঈদের বিশেষ নমাজ পাঠের পর গরু, ছাগল বা দুম্বা কুরবানি দেওয়া হয়। উৎসবের মূল বার্তাই হলো সহমর্মিতা ও সামাজিক সমতা। কুরবানির মাংসের একটি বড় অংশ পরিবার ও আত্মীয়দের পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করা হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে মুসলিম পরিবারগুলোতে বিরিয়ানি, কাবাব, কোরমা ও সেওয়াইয়ের মতো নানাপদ তৈরির ধুম লেগেছে।
পশ্চিমবঙ্গে ছুটির সমীকরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
তারিখের এই বিভ্রান্তির প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির ওপরেও। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ বছর ২৮ মে বকরি ইদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বকরি ইদ উপলক্ষে ২৭ ও ২৮ মে— দুদিনের ছুটি মঞ্জুর করত। তবে রাজ্যে বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই দীর্ঘদিনের ছুটিতে কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে এবার ইদের ছুটি দুই দিনের পরিবর্তে কমিয়ে মাত্র এক দিন অর্থাৎ ২৮ মে করা হয়েছে, যা উৎসবের দিন নির্ধারণের দোলাচলের মাঝে প্রশাসনিক স্তরেও বেশ প্রভাব ফেলেছে।