জ্বালানি সংকট রুখতে তৎপর কেন্দ্র, দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে তেল-গ্যাসের সন্ধান শুরু

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে জ্বালানি ক্ষেত্রে কিছুটা আত্মনির্ভর করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। দেশের কোথায় কোথায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার লুকিয়ে রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে নতুন করে অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। এই লক্ষ্যে গত সোমবারই মন্ত্রকের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে দ্রুত টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
আমদানি সংকট ও জ্বালানি সুরক্ষার তাগিদ
বর্তমানে ভারতে প্রয়োজনীয় পেট্রলপণ্য বা জ্বালানি তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এমনকি রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG)-র ক্ষেত্রে আমদানির ৯০ শতাংশই আসে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী হয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বা অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ভারতে এলপিজি ও জ্বালানি সংকট চরমে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। রাশিয়া বা ইরান থেকে সস্তায় তেল আমদানির সুযোগ থাকলেও সেখানে রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে দেশের বাজারে পেট্রপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া এবং জনগণের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। এই ভবিষ্যৎ বিপর্যয় রুখতেই নিজেদের তেলভাণ্ডার আবিষ্কারে জোর দিচ্ছে মোদি সরকার।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ‘ফ্লপ’ খনিগুলোতে পুনরন্বেষণ
মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অতীতে দেশের যেসব স্থানে তেল বা গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল কিন্তু কোনো কারণে চূড়ান্ত সাফল্য আসেনি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই সমস্ত ব্লকে আবারও তল্লাশি চালানো হবে। ‘ডিরেক্টর জেনারেল অব হাইড্রোকার্বন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত ১০ বছরের ভৌগোলিক ডেটা রিপোর্ট (Geographical Data) নতুন করে বিশ্লেষণ করা হবে। ঠিক কী কারণে আগের গবেষণা বা খনন কাজ বন্ধ হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
প্রথম দফায় চিহ্নিত স্থানসমূহ ও বাংলার রানাঘাট-অশোকনগর
অনুসন্ধানের প্রথম পর্যায়ে মূলত পূর্ব ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং পূর্ব আন্দামানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে:
- বিহারের পূর্ণিয়া
- ওড়িশার মহানদী অববাহিকা
- তামিলনাড়ুর কাবেরী অববাহিকা
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রথম দফার এই অভিযানের পর আগামী দিনে এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট এবং উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরকেও যুক্ত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের মাঠপর্যায়ের কাজ পুরোদমে শুরু করে দেওয়া।
এক ঝলকে
- জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও আমদানির অনিশ্চয়তা কাটাতে দেশজুড়ে নতুন করে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার খোঁজার বিজ্ঞপ্তি জারি করল পেট্রলিয়াম মন্ত্রক।
- প্রথম পর্যায়ে ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, মহানদী ও কাবেরী অববাহিকা এবং পূর্ব আন্দামানে অনুসন্ধান চালানো হবে।
- বিগত ১০ বছরের জিওগ্রাফিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ করে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে খনন ও গবেষণা।
- ভবিষ্যতে এই অনুসন্ধান তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট ও তেল-সমৃদ্ধ অশোকনগরকেও শামিল করা হবে।