ইজরায়েলের পাশে দাঁড়াতে সব মুসলিম দেশকে ‘আব্রাহাম চুক্তি’ সইয়ের আহ্বান ট্রাম্পের, প্রস্তাব ফেরাল পাকিস্তান!

ইজরায়েলের পাশে দাঁড়াতে সব মুসলিম দেশকে ‘আব্রাহাম চুক্তি’ সইয়ের আহ্বান ট্রাম্পের, প্রস্তাব ফেরাল পাকিস্তান!

পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েলের কূটনৈতিক একাকীত্ব দূর করতে এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নিজের প্রথম প্রেসিডেন্সি মেয়াদে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ (Abraham Accords) বা আব্রাহাম চুক্তির সূত্রপাত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই চুক্তির পরিধি আরও বাড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে একঘরে করতে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক চাল চাললেন তিনি। গত শনিবার এক বিবৃতিতে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, জর্ডন, মিশর এবং তুরস্কের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলিকেও এই চুক্তিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের দীর্ঘদিনের নীতিতে অটল থাকার বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান।

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট ও ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অঙ্ক

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “পশ্চিম এশিয়ার এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আমেরিকা সর্বতভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, জর্ডন, মিশর এবং তুরস্কের উচিত ন্যূনতম প্রচেষ্টা হিসেবে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করা।” ট্রাম্পের এই বার্তার পেছনে রয়েছে এক সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। তাঁর লক্ষ্য, যদি প্রধান মুসলিম দেশগুলি ইজরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, তবে এই অঞ্চলে ইরান সম্পূর্ণ একঘরে হয়ে পড়বে এবং আমেরিকার শর্তে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হবে।

আমেরিকার প্রস্তাবে ফাঁপরে পাকিস্তান, সরাসরি প্রত্যাখ্যান ইসলামাবাদের

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য আহ্বানের পর তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে ইসলামাবাদ। একদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে মরিয়া, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আবেগের কারণে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া আসাম্ভব। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নিজেদের ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পাকিস্তানের কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নীতি হলো—১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমসহ স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠিত না হলে তারা ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। এমনকি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে এখনও কারও ইজরায়েলে যাওয়ার অনুমতি নেই।

আব্রাহাম চুক্তির ইতিহাস ও বর্তমান স্থিতি

২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেরার্ড কুশনারের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) প্রথম এই আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এরপর একে একে বাহরিন, মরক্কো এবং সুদান এই চুক্তিতে যোগ দেয়। অতি সম্প্রতি, ২০২৫ সালে কাজাকিস্তানও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। মিশর এবং জর্ডনের মতো দেশগুলি এই চুক্তিতে সই না করলেও অনেক আগেই ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে। তবে ট্রাম্পের এবারের লক্ষ্য এই জোটে পাকিস্তান বা সৌদি আরবের মতো বড় শক্তিকে টেনে আনা, যা বাস্তবায়িত করা বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জ।

এক ঝলকে

  • ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ ৬ মুসলিম দেশকে আহ্বান ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
  • মুসলিম দেশগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে একঘরে করাই ট্রাম্পের মূল ভূ-রাজনৈতিক অঙ্ক।
  • ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ।
  • স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠিত না হলে ইজরায়েলকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে না বলে নিজেদের নীতি পুনর্ব্যক্ত করল ইসলামাবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *