রাসায়নিক ট্যাঙ্কে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ১, গুরুতর জখম অন্তত ৯ জন কর্মী!

আমেরিকার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের লংভিউ এলাকায় অবস্থিত ‘নিপ্পন ডাইনোওয়েভ প্যাকেজিং’ (Nippon Dynawave Packaging) কারখানায় একটি রাসায়নিক ট্যাঙ্কে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক ও মারাত্মক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। কাগজ তৈরির কারখানায় এই ধরনের তীব্র বিস্ফোরণ এবং বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার জেরে কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
কাগজ তৈরির ‘হোয়াইট লিকার’ ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
স্থানীয় প্রশাসন ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, কাগজ তৈরির জন্য ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী তরল রাসায়নিক ‘হোয়াইট লিকার’ (White Liquor) ভর্তি একটি বিশাল ট্যাঙ্কে আচমকাই এই বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে কারখানার ওই অংশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ফুটন্ত ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত ৯ জন কর্মী সরাসরি ওই রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে দগ্ধ ও আহত হন।
উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধান
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় দমকল বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং জরুরি চিকিৎসকেরা (Hazmat Team) ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের শরীর থেকে ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রুত পরিষ্কার করে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ ও আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বিশেষ ট্রমা সেন্টারে ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর থেকে কারখানার বেশ কয়েকজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে। কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঠিক কী কারণে ঘটল, তা জানতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- আমেরিকার ওয়াশিংটনের লংভিউতে নিপ্পন ডাইনোওয়েভ প্যাকেজিং কারখানায় রাসায়নিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে ১ জনের মৃত্যু।
- কাগজ তৈরির উপাদান ‘হোয়াইট লিকার’ ভর্তি একটি ট্যাঙ্ক ফেটে যাওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
- তরল রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে গুরুতর দগ্ধ ও আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন কর্মী; বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
- দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন কর্মী এখনও নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন।