নদী থেকে তোলা পাহাড়প্রমাণ অবৈধ বালির স্তূপ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

তালডাংরার পাঁচমুড়ার জয়পণ্ডা নদী থেকে বেআইনিভাবে তুলে রাখা পাহাড়প্রমাণ অবৈধ বালির স্তূপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই বালির স্তূপ উদ্ধারের পর থেকেই একে অপরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে মরিয়া শাসক ও বিরোধী পক্ষ। প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এতদিন ধরে এই অবৈধ বালির কারবার চলছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বাঁকুড়ার এই অঞ্চলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
শাসক-বিরোধী তরজা ও অভিযোগের তির
প্রধান বিরোধী দল বিজেপির সরাসরি অভিযোগ, বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ মদতেই এই অবৈধ বালির কারবার রমরমিয়ে চলছিল। সরকারি আধিকারিক ও প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এই বিপুল পরিমাণ বালি ওড়িশা বা অন্যান্য জায়গায় পাচারের উদ্দেশ্যেই নদীর তীরবর্তী এলাকায় মজুত করা হয়েছিল বলে দাবি পদ্ম শিবিরের। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বালির স্তূপের পেছনে কার বা কাদের হাত রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
পুরনো সিস্টেম ভাঙার দাবি স্থানীয় বিধায়কের
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মুখ খুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সৌভিক পাত্র। তিনি স্পষ্ট জানান যে, রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বালি পাচারের সমস্ত পুরনো বেআইনি ‘সিস্টেম’ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এখন আর আগের মতো অবৈধভাবে বালি পাচার করার কোনো সুযোগ নেই। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বালি কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে তুলে না দিয়ে সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম মেনে স্থানীয় সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কাজে এবং তাঁদের অত্যন্ত কম দামে সরবরাহ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এক ঝলকে
- তালডাংরার পাঁচমুড়ার জয়পণ্ডা নদী থেকে বেআইনিভাবে তোলা বিপুল পরিমাণ অবৈধ বালির স্তূপ উদ্ধার ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
- তৃণমূলের প্রত্যক্ষ মদতে এবং প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এই বালি পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।
- সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এই বেআইনি বালির ব্যবসার পেছনে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
- স্থানীয় বিধায়ক সৌভিক পাত্র জানান, বালি পাচারের পুরনো সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এই বালি সরকারি নিয়মে সাধারণ মানুষকে কম দামে দেওয়া হবে।