সীমান্তে দালালদের নয়া কারবার, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক!

রাজ্য সরকারের কড়া ‘থ্রি-ডি’ নীতির জেরে মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চোরাপথে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার এক অভূতপূর্ব হিড়িক পড়েছে। ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে আটকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা এখন সীমান্ত পার হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। সীমান্ত পার করে দেওয়ার নাম করে দালালরা এখন অনুপ্রবেশকারীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা করে দাবি করছে বলে জানা গেছে।
সীমান্তে কড়া নজরদারি ও বিএসএফের তৎপরতা
অতীতে যে সমস্ত এলাকা জাল পরিচয়পত্র তৈরি এবং গণঅনুপ্রবেশের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই হিলি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল সীমান্ত এখন পুলিশ ও বিএসএফের কড়া পাহারায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের এই যৌথ নজরদারির কারণে চোরাপথে যাতায়াত করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়েছে। এই কঠোর সুরক্ষাবেষ্টনীর মাঝেই সীমান্ত পারাপারের গোপন চেষ্টা চালাতে গিয়ে দালাল চক্র বিপুল অঙ্কের টাকার এই নতুন কারবার ফেঁদে বসেছে।
হোল্ডিং সেন্টারে ঠাঁই ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
উন্মুক্ত সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশির জেরে ইতিমধ্যেই মালদহ জেলা থেকে ৯ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ রুখতে এবং আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রাখতে ধৃতদের আপাতত বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাব ও কড়াকড়ির ফলে সীমান্তজুড়ে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে তেমনই অবৈধভাবে থাকা বিদেশিদের দালালদের মাধ্যমে ওপারে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও রুখে দেওয়া হচ্ছে।
এক ঝলকে
- রাজ্য সরকারের ‘থ্রি-ডি’ নীতির জেরে মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা।
- কড়া নজরদারির মাঝেই সক্রিয় হয়ে ওঠা দালাল চক্র ওপারে পার করে দেওয়ার বিনিময়ে মাথাপিছু ২০,০০০ টাকা করে আদায় করছে।
- গণঅনুপ্রবেশের পুরোনো রুট হিলিসহ অন্যান্য সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ কড়া পাহারা বসানো হয়েছে।
- মালদহ সীমান্ত থেকে ধৃত ৯ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে আপাতত হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করেছে প্রশাসন।