ডিজিটাল প্রযুক্তিতে এবার বাংলায় শুরু হচ্ছে জনগণনার মহাযজ্ঞ!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত জনগণনা বা সেনসাসের কাজ। আগামী ১৮ মে রাজ্যপালের অনুমোদন মেলার পর রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি দশ বছর অন্তর দেশে জনগণনা হলেও করোনা মহামারির কারণে গত দফায় তা করা সম্ভব হয়নি। ফলে এবারের ২০২৭ সালের এই জনগণনাকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও কঠোর আইনি বার্তা
২০২৭ সালের এই জাতীয় জনগণনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তৃণমূল স্তর থেকে শীর্ষ স্তর পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ‘জনগণনা আধিকারিক’ হিসেবে নিয়োগ করেছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM), মহকুমা শাসক (SDO) এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের (BDO) নিজ নিজ এলাকায় এই কার্যক্রম তদারকির চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জনগণনার কাজে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করলে বা সরকারি কর্মীরা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে ‘জনগণনা আইন, ১৯৪৮’ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে দুই ধাপের প্রক্রিয়া
এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে, যার মধ্যে প্রথম ধাপটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারই প্রথম নাগরিকরা ‘সেলফ এন্যুমারেশন’ বা নিজস্ব নথিভুক্তকরণের সুযোগ পাবেন, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজেদের নাম ও তথ্য আপলোড করা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত বিবরণের পাশাপাশি বাড়ি ও সম্পত্তির সঠিক হিসেব উল্লেখ করতে হবে। পরবর্তীতে তথ্য যাচাইয়ের জন্য তথ্যচিত্র বা আবেদনপত্রটি লক হয়ে যাওয়ার আগে মাঠপর্যায়ের আধিকারিকরা প্রতিটি বাড়ি গিয়ে প্রদত্ত বিবরণী খতিয়ে দেখবেন। এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে দেশের নীতি নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও নিখুঁত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।