ভোটে ভরাডুবির পর কি ডানা ছাঁটা হলো অনুব্রতর, নিচুপট্টির বাড়ি থেকে উধাও পুলিশি নিরাপত্তা!

নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এত দিন ধরে পেয়ে আসা তাঁর ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা এক ধাক্কায় প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য। এর ফলে বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় তাঁর বাড়ির সামনে মোতায়েন থাকা সশস্ত্র পুলিশ কর্মীরা রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছেন। অনুব্রতর পাশাপাশি বীরভূমের জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখ এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার নিরাপত্তাও একযোগে কাটছাঁট করা হয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর প্রভাব ও নিরাপত্তা কাটছাঁট
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং বীরভূমে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বীরভূম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডল দলের কোর কমিটির আহ্বায়ক পদ এবং রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকার কারণে এত দিন এই উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর সুরক্ষায় নিয়োজিত চারজন সশস্ত্র হাউস গার্ডকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তিনি কেবল একজন মাত্র সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী পাবেন।
একইভাবে, কাজল শেখের পাইলট, এসকট ও হাউস গার্ড তুলে নিয়ে তাঁকে কেবল বিধায়ক ও সভাধিপতি পদের জন্য নির্ধারিত ২ জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা কমিয়ে সমসংখ্যক রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে খবর।
ঘরবন্দি কেষ্ট এবং জেলায় নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ
তৃণমূল জমানায় বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক প্রতাপ ছিল প্রশ্নাতীত। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বীরভূমের ৬টি আসনে বিজেপি জয়ী হতেই সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে জেলার চেনা সমীকরণ। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই অনুব্রত মণ্ডল নিজেকে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতে কার্যত ঘরবন্দি করে ফেলেছেন। তাঁর বাড়ির সামনে এখন আর অনুগামীদের ভিড় কিংবা রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনাটি নিছকই প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দলের এই ভরাডুবির পর বীরভূমের তৃণমূল নেতৃত্বের এমন কোণঠাসা দশা এবং প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান জেলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে শাসক শিবিরের নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।