মৌলবাদীদের তীব্র রোষে ফিরল না কৃষ্ণনগর, লাহোরের নামবদল বিতর্কে পিছু হটল মারিয়ম সরকার!

মৌলবাদীদের তীব্র রোষে ফিরল না কৃষ্ণনগর, লাহোরের নামবদল বিতর্কে পিছু হটল মারিয়ম সরকার!

লাহোরের হারানো ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির কোলাজ ফিরিয়ে আনার সাহসী উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত কট্টরপন্থীদের চাপের মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হলো পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজের নেওয়া লাহোরের একাধিক এলাকার অতীত হিন্দু ও শিখ নাম পুনর্বহালের সিদ্ধান্তটি আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে ইসলামপুরার নাম আর ‘কৃষ্ণনগর’ কিংবা বাবরি মসজিদ চকের নাম আর ‘জৈন মন্দির রোড’ হচ্ছে না।

ঐতিহ্য ফেরানোর উদ্যোগ ও মৌলবাদী প্রতিরোধ

দেশভাগের আগে লাহোর ছিল হিন্দু ও শিখ অধ্যুষিত অঞ্চল। ফলে স্বভাবতই এখানকার প্রায় প্রতিটি জনপদ ও রাস্তার নামের সাথে জড়িয়ে ছিল প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তবে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর ধীরে ধীরে সেই নামগুলো বদলে ফেলা হয়। গত মার্চ মাসে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজ লাহোরের সেই পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ বৈঠক করেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২০ মে লাহোরের একগুচ্ছ ঐতিহাসিক জায়গার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পরই পাকিস্তানের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় কট্টরপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠী ও কতিপয় প্রভাবশালী ব্লগার। তাদের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ পাকিস্তানের মূল ইসলামিক ভাবাবেগের পরিপন্থী এবং এতে হিন্দু-শিখ ঐতিহ্যকে জোরপূর্বক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন এই ঐতিহাসিক নামবদলের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রভাব ও স্থগিত হওয়া নামের তালিকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই পিছু হটার ঘটনাটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ধর্মীয় মৌলবাদের শক্তিশালী প্রভাবকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইতিহাস চর্চার এই প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় দেশটির সংখ্যালঘু সংস্কৃতির স্বীকৃতি পাওয়ার পথ আরও দীর্ঘায়িত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া এই নামবদলের তালিকায় উল্লেখযোগ্য ছিল— ইসলামপুরার নাম বদলে ‘কৃষ্ণনগর’, সুন্নতনগরের নাম ‘সন্তনগর’, মৌলানা জাফর চকের নাম ‘লক্ষ্মী চক’, বাবরি মসজিদ চকের নাম ‘জৈন মন্দির চক’ এবং মুস্তফাবাদের নাম ‘ধর্মপুরা’ রাখা। এছাড়া স্যার আগা খান চকের নাম বদলে ‘ডেভিস রোড’, আল্লামা ইকবাল রোডের নাম ‘জেল রোড’, ফতিমা জিন্না রোডের নাম ‘কুইন রোড’ এবং বাঘ-ই-জিন্না রাস্তার নাম ‘লরেন্স রোড’ করার কথা ছিল। সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও কট্টরপন্থীদের রোষ এড়াতে এই নামবদল প্রকল্পটি আপাতত সম্পূর্ণ ঠান্ডা ঘরে চলে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *