যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানে মার্কিন হামলা, ‘আত্মরক্ষার’ দাবি আমেরিকার, উপযুক্ত জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের!

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানে মার্কিন হামলা, ‘আত্মরক্ষার’ দাবি আমেরিকার, উপযুক্ত জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের!

আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ বিরতি এবং কাতারের দোহায় চূড়ান্ত শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ার মাঝেই ফের নতুন করে বিক্ষিপ্ত হামলার ঘটনা ঘটল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তবে এই হামলার ফলে মূল সংঘর্ষ বিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই দাবি ওয়াশিংটনের। কিন্তু আমেরিকার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র বিরোধিতা করে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন আঘাত ও ‘আত্মরক্ষা’র সাফাই

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতার নৌকাগুলিকে নিশানা করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকার দাবি, ইরানি বাহিনীর তরফ থেকে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে এবং কেবল ‘আত্মরক্ষা’র স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আমেরিকার এই যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) বায়ুসেনা প্রধান সৈয়দ মাজিদ মুসাভি সাফ জানিয়েছেন, মার্কিন এই আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে তাদের আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা একটি আরকিউ-৪ ড্রোন এবং এফ-৩৫ ফাইটার জেট লক্ষ্য করেও গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

চাপের রাজনীতি: ট্রাম্পের পরমাণু হুঁশিয়ারি ও ইরানের ২৫০০ কোটি ডলারের দাবি

এই বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও সামরিক সংঘাতের সমান্তরালে দুই দেশই শান্তি চুক্তির টেবিলে নিজেদের দাবিদাওয়া আদায়ে পরস্পরের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিয়ে লিখেছেন, ইরানকে তাদের সমস্ত পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম (পরমাণু ধূলি) ধ্বংসের লক্ষ্যে হয় আমেরিকার হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে নিজেরাই তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করবে।

পাল্টা চাল হিসেবে ইরানও আমেরিকার সামনে কঠিন শর্ত রেখেছে। তেহরানের দাবি, শান্তি চুক্তি পাকা করতে হলে আমেরিকার ব্যাংকে ‘ফ্রিজ’ বা অবরুদ্ধ হয়ে থাকা তাদের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের তহবিল অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে। শর্ত অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থের অর্ধেক চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এবং বাকি অর্ধেক পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

কাতারের শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির দাবি

এই তীব্র চাপানউতোর এবং সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের দোহায় মধ্যস্থতাকারী দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা জারি রয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত করতে দোহায় উপস্থিত রয়েছেন ইরানের মুখ্য আলোচনাকারী, বিদেশমন্ত্রী এবং সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর আবদুল নাসের হিম্মতি। ইরানের একটি সূত্রের খবর, এত জট ও বিক্ষিপ্ত হামলার পরেও দোহায় আলোচনার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন অতীতেও বিশ্বাসযোগ্যতার পরিচয় দেয়নি, এই আশঙ্কায় প্রতি পদে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেই এগোচ্ছে তেহরান।

এক ঝলকে

  • সংঘর্ষ বিরতি ও শান্তি আলোচনার মাঝেই দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস ও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেন্টকমের (CENTCOM) আচমকা হামলা।
  • মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে আমেরিকার একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করল ইরান।
  • ইরানকে সমস্ত পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
  • শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে অবরুদ্ধ থাকা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের তহবিল ফেরতের দাবিতে অনড় ইরান; তবে কাতারের দোহা বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *