পুরাণো সোনা বদলে নতুন গয়না নিচ্ছেন? অজান্তেই পড়তে পারেন আয়করের কোপে, জেনে নিন নিয়ম

ভারতে সোনা কেবল একটি সাধারণ বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, বরং এটি পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আভিজাত্যের প্রতীক। বহু পরিবারেই ফ্যাশন বদলানোর সাথে সাথে কিংবা পুরোনো নকশা পছন্দ না হলে, সেই সোনা জুয়েলার্সের দোকানে এক্সচেঞ্জ বা অদলবদল করে নতুন ডিজাইনের গয়না গড়িয়ে নেওয়ার চল রয়েছে। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, আপনার এই অতি পরিচিত অভ্যাসটি আপনাকে সরাসরি আয়কর দফতরের স্ক্যানারে এনে ফেলতে পারে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো গয়না বদলে নতুন গয়না নেওয়াকে আয়কর আইনের অধীনে কেবল ‘ডিজাইন পরিবর্তন’ হিসেবে দেখা হয় না, এটি অনেক ক্ষেত্রে ‘অ্যাসেট ট্রান্সফার’ বা সম্পত্তি হস্তান্তর হিসেবে গণ্য হতে পারে।
কেন লাগু হতে পারে ক্যাপিটাল গেন ট্যাক্স?
আয়কর আইন অনুযায়ী, সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা উপার্জন করাই শুধু করের আওতায় আসে না; পুরোনো সোনা দিয়ে নতুন সোনা বা গয়না নেওয়াও হস্তান্তরের (Transfer) নিয়মে পড়ে। ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি বহু বছর আগে কম দামে সোনা কিনেছিলেন, বর্তমান বাজারে যার মূল্য আকাশছোঁয়া। এখন সেই পুরোনো সোনা এক্সচেঞ্জ করার সময় যে বাড়তি ভ্যালু বা লভ্যাংশ তৈরি হচ্ছে, তার ওপর ক্যাপিটাল গেন ট্যাক্স (Capital Gains Tax) প্রযোজ্য হতে পারে। গ্রাহক সরাসরি হাতে কোনো ক্যাশ বা নগদ টাকা না পেলেও, কর দফতর এটিকে সম্পত্তির হাতবদল হিসেবেই বিবেচনা করে।
পুৈতৃক বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গয়নায় জটিলতা বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি হয় পুৈতৃক গয়না বা বংশানুক্রমিক সোনার ক্ষেত্রে। কারণ, বেশিরভাগ ভারতীয় পরিবারেই এই ধরনের পুরোনো গয়না কেনার কোনো পাকা রসিদ, নথিপত্র বা সঠিক দামের লিখিত রেকর্ড থাকে না। ফলে এক্সচেঞ্জ করার সময় সেই সোনার প্রকৃত লাভ বা ক্যাটিটাল গেন গণনা করা করদাতাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি গয়নাটি যদি উপহার বা উইলের (বসিয়ত) মাধ্যমেও পেয়ে থাকেন, তাহলেও আয়করের নিয়ম খাটবে এবং ওই সোনার আদি মালিক কত দামে তা কিনেছিলেন, তাকেই ভিত্তি মূল্য ধরে ট্যাক্স হিসাব করা হতে পারে।
১ এপ্রিল ২০০১ সালের গুরুত্ব
খুব পুরোনো বা নথিপত্রহীন সোনার ক্ষেত্রে আয়কর মূল্যায়নে ১ এপ্রিল ২০০১ তারিখের বাজারমূল্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক ধরা হয়। নথির অভাবে অনেক সময় এই নির্দিষ্ট তারিখের সোনার দামকে বেঞ্চমার্ক বা ভিত্তি ধরে ক্যাপিটাল গেনের হিসাব কষা হয়। ফলে কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়া হুট করে গয়নার ডিজাইন বদলে ফেলা ভবিষ্যতে ট্যাক্স নোটিসের কারণ হতে পারে।
সোনা এক্সচেঞ্জ করার আগে যা মাথায় রাখবেন
বর্তমানে প্রায় সমস্ত নামী জুয়েলার্সই পুরোনো সোনার বদলে নতুন গয়না নেওয়ার আকর্ষণীয় অফার দেয়। কিন্তু সঠিক ভ্যালুয়েশন ও রসিদ না থাকলে পরবর্তীতে আইনি সমস্যা বাড়তে পারে। তাই কর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পুরোনো সোনা এক্সচেঞ্জ করার আগে সেটির আনুমানিক ক্রয়ের তারিখ, মূল্য এবং প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র থাকলে তা ভালোভাবে যাচাই করে নিন, যাতে ভবিষ্যতে আয়কর দফতরের কোনো নোটিস বা অতিরিক্ত করের বোঝা ঘাড়ে না চাপে।
এক ঝলকে
- পুরোনো সোনা বদলে নতুন ডিজাইনের গয়না নেওয়াকে আয়কর আইন অনুযায়ী ‘সম্পত্তি হস্তান্তর’ (Asset Transfer) হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
- সোনার মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক্সচেঞ্জ করার সময় তৈরি হওয়া বাড়তি ভ্যালুর ওপর ক্যাপিটাল গেন ট্যাক্স লাগু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- পুৈতৃক বা উপহার হিসেবে পাওয়া গয়নার ক্ষেত্রে ক্রয়ের সঠিক রসিদ বা নথিপত্র না থাকলে করের হিসাব কষা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।
- আয়করের আইনি জটিলতা বা নোটিস এড়াতে সোনা অদলবদল করার আগে তার আনুমানিক মূল্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের খোঁজ রাখা জরুরি।