মহিলাদের অ্যাকাউন্টে এবার ৩০০০ টাকা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিতরণ শুরু হতেই ব্যাপক তৎপরতা

মহিলাদের অ্যাকাউন্টে এবার ৩০০০ টাকা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিতরণ শুরু হতেই ব্যাপক তৎপরতা

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সামাজিক সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিধি ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে এবার মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর আজ সকাল থেকেই প্রকল্পের নির্দিষ্ট পোর্টাল চালুর পাশাপাশি ফর্ম বিতরণ ও নাম নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গ্রামীণ ও শহর এলাকা জুড়ে এই নতুন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

আবেদনের যোগ্যতা ও প্রশাসনিক শিথিলতা

প্রশাসন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, যাঁরা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তাঁরা সরাসরি এই নতুন প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন। মূলত নতুন আবেদনকারী এবং যাঁদের নাম আগে কোনো কারণে বাদ গিয়েছিল, তাঁদেরই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন জানাতে হবে। এবারের প্রক্রিয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন ভোটার তালিকার ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করা হলেও যাঁদের নথি কোনো ট্রাইব্যুনালে আটকে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও আপাতত এই সুবিধা চালু রাখা হবে।

আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথির বাধ্যবাধকতা

উপভোক্তারা সরকারি পোর্টাল (https://annapurnabhandarwb.in/) থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন, অথবা প্রশাসনের নির্দিষ্ট ক্যাম্প থেকে সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদনের জন্য বৈধ রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি, আয়ের শংসাপত্র এবং বসবাসের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগ। আধার লিঙ্ক না থাকলে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যাচাই প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

আবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ অত্যন্ত নিপুণভাবে ভাগ করেছে প্রশাসন। গ্রামীণ এলাকায় বিডিও, শহরাঞ্চলে এসডিও এবং কলকাতা পুরসভা এলাকায় পুর কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্ব পালন করবেন। যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা জেলা শাসকের অনুমোদনের মাধ্যমে পোর্টালে আপলোড করা হবে। আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আধার সংযোগের বাধ্যবাধকতার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই জটিলতা এড়াতে এবং দ্রুত সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক তৎপরতা ও ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে নতুন প্রকল্প পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো ভাতা সচল রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত উপভোক্তাদের বড়সড় স্বস্তি দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *