হাওয়ায় দুলছিল ৭০ ফুটের কাঠামো, এবার সরিয়ে ফেলা হচ্ছে লেকটাউনের বিতর্কিত মেসি-মূর্তি!

হাওয়ায় দুলছিল ৭০ ফুটের কাঠামো, এবার সরিয়ে ফেলা হচ্ছে লেকটাউনের বিতর্কিত মেসি-মূর্তি!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই অদ্ভুত আকৃতির ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শিরোনামে উঠে এলো লেকটাউনের লিওনেল মেসির আদলে তৈরি বিশালাকার মূর্তিটি। নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সংশয় এবং আইনি জটিলতার জেরে মঙ্গলবার রাত থেকেই এই মূর্তিটি সরানোর তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির আদলে তৈরি প্রায় ৭০ ফুটের এই বিশাল কাঠামোটি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়নি। সম্প্রতি সামান্য হাওয়াতেই মূর্তিটিকে বিপজ্জনকভাবে দুলতে দেখা যায়। জানা যায়, মূর্তির মূল কাঠামোর কিছু স্ক্রু আলগা হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিচের মাটিও আলগা হয়ে গিয়েছে। যদিও পূর্ত দফতরের কর্মীরা সাময়িকভাবে তা মেরামত করেছিলেন, কিন্তু প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা পুরোপুরি এড়ানো যায়নি। পথচারী ও স্থানীয়দের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই মূলত এটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুমতি বিতর্ক ও আইনি জটিলতা

মেসি-মূর্তির এই পরিণতির পেছনে শুধু কাঠামোগত দুর্বলতাই নয়, রয়েছে গভীর প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা। অভিযোগ উঠেছে, পূর্ত দফতরের প্রয়োজনীয় অনুমতি বা অনাপত্তিপত্র (NOC) ছাড়াই সরকারি জমির ওপর এই মূর্তিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। লেকটাউনে অবস্থিত আর্জেন্টিনার অপর কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনার মূর্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সরকারি জমি ব্যবহারের বৈধতা খতিয়ে দেখতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ইতিমধ্যেই দমদম পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে।

সব মিলিয়ে, উপযুক্ত পরিকাঠামো ও আইনি অনুমোদন ছাড়া জনপরিসরে এই ধরনের বিশাল স্থাপত্য নির্মাণের প্রবণতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, লেকটাউনের এই ঘটনাটি তা আরও একবার প্রমাণ করল। যুবভারতীর মূর্তির মতো এটিকেও সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে, নাকি বিশ্বকাপজয়ী তারকার সম্মানের কথা ভেবে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে পুনর্স্থাপন করা হবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *