নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরিতে এসআইআর প্রক্রিয়াই ভরসা, নির্বাচন কমিশনকে সবুজ সংকেত দিল সুপ্রিম কোর্ট

নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরিতে এসআইআর প্রক্রিয়াই ভরসা, নির্বাচন কমিশনকে সবুজ সংকেত দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ সংবিধানের নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মূল নীতিকে আরও শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী এই ধরনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া চালানোর পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।

গত বছর জুন মাসে বিহারে নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া আইনসঙ্গত নয় এবং এর মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার সেই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে রায় দেয়।

গণতন্ত্রের সুরক্ষায় আইনি বৈধতা

রায়ে শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেছে, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। সেই কারণে একটি সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য সেই লক্ষ্যের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত। আদালত আরও জানায়, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ এবং তার অধীনে তৈরি বিধিগুলিও কমিশনকে ভোটার তালিকা সংশোধনের পূর্ণ অধিকার দেয়। ফলে এই পদক্ষেপকে কোনোভাবেই অconstitutional বা অসাংবিধানিক বলা যায় না।

বিতর্কের অবসান ও দূরগামী প্রভাব

বিহারে নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ সংশোধন অভিযানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছিল যে, ভুয়ো, দ্বৈত বা অযোগ্য নাম বাদ দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই অভিযানের একমাত্র উদ্দেশ্য।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে নির্বাচন কমিশনের আইনি অবস্থান যেমন সুসংহত হলো, তেমনই ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরও অবসান ঘটল। আদালতের এই সবুজ সংকেতের পর আগামী দিনে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে এই ধরণের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *