নিট কাণ্ডে সিবিআইয়ের বড় অ্যাকশন, এবার জালে চিকিৎসক ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক!

নিট কাণ্ডে সিবিআইয়ের বড় অ্যাকশন, এবার জালে চিকিৎসক ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক!

ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে আরও বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের মধ্যেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবার সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েছেন লাতুরের একজন পেশাদার চিকিৎসক এবং পুণের এক নামী কোচিং সেন্টারের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক। এই দুই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারি মিলিয়ে নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় সিবিআইয়ের হাতে ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ধৃত চিকিৎসক ডা. মনোজ শিরুরে লাতুরের বাসিন্দা। তিনি অভিযুক্ত কোচিং সেন্টারের মালিকের ছেলেসহ অন্তত তিনজন শিক্ষার্থীকে চড়া মূল্যের বিনিময়ে রসায়নের প্রশ্নপত্র পাইয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধৃত তেজস হর্ষদকুমার শাহ পুণের একটি কোচিং সেন্টারে পদার্থবিদ্যা পড়ান। তিনি অন্য এক অভিযুক্তের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। এই চক্রের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে সিবিআই ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৪৯টি স্থানে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং একাধিক আপত্তিকর নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

এই ঘটনার জেরে স্বভাবতই বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্প্রতি এই ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখপ্রকাশ করে এনটিএ-কে চরম ভর্ৎসনা করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, পূর্ববর্তী নির্দেশিকাগুলো যথাযথভাবে পালন না করার কারণেই বারবার এই ধরনের বিপর্যয় ঘটছে। আগামী ৩ জুন পুনরায় এই প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার দিন ঘোষণা করা হলেও, প্রশ্ন ফাঁসের এই ধারাবাহিকতা শিক্ষা ব্যবস্থার চরম গাফিলতিকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

পরীক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয় ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। নিটের মতো একটি অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পর, পরীক্ষা বাতিল বা প্রশ্ন ফাঁসের খবর শিক্ষার্থীদের চরম অবসাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে পরীক্ষা বাতিলের খবর শুনে রাজস্থানের প্রদীপ মেঘাওয়ালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। বারবার পরীক্ষা নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক হেনস্তাই বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *