সরাসরি সড়কপথে জুড়ছে তারাপীঠ ও দেওঘর, লাভের আশায় বুক বাঁধছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শক্তিপীঠ তারাপীঠ এবং ঝাড়খণ্ডের বিখ্যাত শিবক্ষেত্র দেওঘরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বহুদিনের দাবি মেনে এই দুই রাজ্যের তীর্থক্ষেত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে একটি নতুন জাতীয় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রামপুরহাটে দুই রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। নতুন এই রাস্তা তৈরি হলে দুই রাজ্যের পুণ্যার্থীদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই দুই অঞ্চলের পর্যটন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও প্রকল্পের রূপরেখা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রামপুরহাটের মাঝখণ্ড গ্রাম থেকে শুরু হয়ে ১১৪এ জাতীয় সড়কটি ঝাড়খণ্ডের ভিতরে প্রবেশ করবে এবং সরাসরি দেওঘরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, বনদপ্তর ও ভূমি দপ্তরের আধিকারিক এবং রামপুরহাটের স্থানীয় প্রতিনিধির উপস্থিতিতে একটি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের আধিকারিকরাও অনলাইনের মাধ্যমে এই বৈঠকে যোগ দেন। প্রকল্পটির অধীনে মোট প্রায় ১৫ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে বীরভূম অংশে ৯ কিলোমিটার এবং ঝাড়খণ্ড অংশে ৬ কিলোমিটার রাস্তা থাকবে। সমগ্র প্রকল্পে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা।
উন্নয়নের কারণ ও বাণিজ্যিক প্রভাব
সারা বছরই দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থী তারাপীঠ ও দেওঘরে আসেন। কিন্তু সরাসরি উন্নত সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এতদিন যাত্রীদের অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হতো, যা উৎসবের দিনগুলোতে বা শ্রাবণ মাসে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যই নতুন জাতীয় সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই রাস্তা চালু হলে দুই তীর্থক্ষেত্রের দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে। ফলে চাঙ্গা হবে স্থানীয় পর্যটন শিল্প। রাস্তার ধারে নতুন হোটেল, লজ, দোকানপাট এবং পরিবহন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে।
যানজট মুক্তি ও রাজনৈতিক তৎপরতা
নতুন এই বিকল্প সড়কটি চালু হলে রামপুরহাট শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার বড়সড় উপশম হবে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ড ও দেওঘরমুখী গাড়িগুলো শহরের ওপর দিয়ে যাতায়াত করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, নতুন রাস্তা হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে। স্থানীয়দের একাংশ এবং বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবিটি আগে উপেক্ষিত থাকলেও, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের বিশেষ উদ্যোগেই এই জনমুখী প্রকল্প অবশেষে বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।