আদালত অবমাননার দায়ে বড় ধাক্কা, বাইজুস প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ সিঙ্গাপুর আদালতের

আদালত অবমাননার দায়ে বড় ধাক্কা, বাইজুস প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ সিঙ্গাপুর আদালতের

ভারতীয় এডটেক জগতের একসময়ের শীর্ষ সংস্থা বাইজুসের সংকট আরও গভীর হলো। আদালত অবমাননার অভিযোগে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বাইজু রবীন্দ্রনকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে সিঙ্গাপুরের একটি আদালত। একইসঙ্গে তাঁকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য সামনে এসেছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত রবীন্দ্রনকে ৯০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে এবং ‘বিয়ারার ইনভেস্টকো’ নামের একটি সংস্থার মালিকানা সংক্রান্ত নথি জমা দিতে বলেছে।

২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে সিঙ্গাপুরের আদালতে বাইজু রবীন্দ্রনের সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছে। সেই মামলায় আদালতের পক্ষ থেকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হলেও রবীন্দ্রন তা বারবার লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ। এই আইনি নির্দেশ অমান্য করার জেরেই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এই শাস্তির নির্দেশ সামনে আসার পর বাইজু রবীন্দ্রন নিজের পক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। বর্তমানে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উত্থান থেকে পতনের কারণ

২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই শিক্ষাপ্রযুক্তি সংস্থাটি করোনাকালে ঘরবন্দি পড়ুয়াদের অনলাইন পড়াশোনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। অতি দ্রুত এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি এডটেক স্টার্টআপে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়। কিন্তু ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে একের পর এক ভুল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়ে বাইজুস। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং খরচ কমানোর পথ হাঁটলেও শেষরক্ষা হয়নি। বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির অভিযোগে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মূলত সংস্থাটির আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়।

সম্ভাব্য প্রভাব

এই রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতীয় স্টার্টআপ বাজারের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনের কারাদণ্ডের নির্দেশ বাইজুস সংস্থার চলমান আর্থিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এবং ঋণদাতাদের সঙ্গে সমঝোতার পথকে আরও জটিল করে তুলবে। এর ফলে বাকি থাকা কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং সংস্থার ব্র্যান্ড মূল্য চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *