বিপদের আশঙ্কায় দড়িতে বাঁধা ৭০ ফুটের মেসি, কাটমানি বিতর্কে তৃণমূলকে তীব্র তোপ দিলীপ ঘোষের

বিপদের আশঙ্কায় দড়িতে বাঁধা ৭০ ফুটের মেসি, কাটমানি বিতর্কে তৃণমূলকে তীব্র তোপ দিলীপ ঘোষের

কলকাতার লেকটাউনে স্থাপিত ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ৭০ ফুটের বিশাল মূর্তিটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ত দপ্তর। উদ্বোধনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই মূর্তির এই জরাজীর্ণ দশা এবং তা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগের তৃণমূল সরকারকে একহাত নিয়ে সুর চড়িয়েছেন বিজেপি সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি অপসারণের সিদ্ধান্ত

গত বছর ডিসেম্বর মাসে লিওনেল মেসির কলকাতা সফর চলাকালীন এই ৪৪ মিটারের (৭০ ফুট) স্থাপত্যটির ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন খোদ আর্জেন্টিনীয় তারকা। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর তত্ত্বাবধানে ও উদ্যোগে শিল্পী মন্টি পালের নেতৃত্বে এই বিশাল মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রবল হাওয়ায় দুলতে শুরু করেছে মূর্তির কাঠামোটি। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে যে, মূর্তিটির ভিত বা বেসমেন্ট মোটেও শক্ত নয়।

যাতে বড়সড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে তৎপরতার সাথে মঙ্গলবার রাতেই মূর্তির চারদিকে দড়ি বেঁধে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূর্তির নকশাকার ও শিল্পী মন্টি পালের সাথে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মূল মূর্তিটিকে অক্ষত রেখেই সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হবে। শিল্পী জানিয়েছেন, মূর্তিটি একবারে তৈরি না করে আলাদা আলাদা অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে এটি একসঙ্গে ভেঙে ফেলা অত্যন্ত কঠিন। তবে বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে এটিকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

কাটমানির অভিযোগ ও রাজনৈতিক তরজা

বিশ্বখ্যাত একজন ফুটবল তারকার মূর্তি নিয়ে এমন নজিরবিহীন টানাপোড়েন শুরু হতেই শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই ঘটনাকে “বাঙালির জন্য চরম লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল সরকারের আমল জুড়ে চলা কাটমানি সংস্কৃতির কারণেই এই মূর্তির আজ এমন বেহাল দশা।

দিলীপ ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, মেসিকে কলকাতায় নিয়ে এসে কার্যত অপমান করা হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত একজন মানুষের মূর্তি এক বছরও টিকল না এবং তা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো। এই অব্যবস্থাপনার কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে বাঙালির সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করে তিনি মন্তব্য করেন, তৃণমূল বাঙালির নাক-কান কেটে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূর্তির দুর্বল নির্মাণশৈলীর কারণে যেমন বড় বিপদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তেমনই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *