গাজায় ইজরায়েলের বিধ্বংসী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, দায়িত্ব পাওয়ার ৭ দিনেই খতম হামাসের নতুন সেনাপ্রধান!

গাজা ভূখণ্ডে ফের এক বড়সড় সামরিক সাফল্য দাবি করল ইজরায়েল সেনা। বায়ুসেনার একটি অত্যন্ত গোপন ও নিখুঁত অভিযানে মৃত্যু হয়েছে হামাসের নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান মহম্মদ ওদেহ-র। পশ্চিম গাজা শহরের রিমাল এলাকায় একটি বহুতলে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে এই অভিযান চালানো হয়। বুধবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কার্টজ যৌথভাবে এই সাফল্যের খবর প্রকাশ করেছেন। ইজরায়েলি সেনার দাবি, এই হামলায় ওই ভবনের ওপরের তলাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ওদেহসহ মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
নেতৃত্বের সংকটে হামাস
গত ১৫ মে ইজরায়েলি হামলায় হামাসের তৎকালীন সেনাপ্রধান ইজ আল দিন আল হাদ্দাদ সপরিবারে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঠিক তিন দিন পর সংগঠনের সামরিক শাখার হাল ধরেছিলেন মহম্মদ ওদেহ। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৭ দিনের মাথাতেই ইজরায়েলের সামরিক তৎপরতায় প্রাণ হারাতে হলো তাকেও। ওদেহ দীর্ঘদিন ধরে হামাসের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন এবং সংগঠনের আল-কাসাম ব্রিগেডের অন্যতম অভিজ্ঞ ও দক্ষ চালিকাশক্তি ছিলেন। ৭ অক্টোবরের ইজরায়েল হামলায় তাঁর সরাসরি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও যুদ্ধ পরিস্থিতি
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাসে একের পর এক শীর্ষ স্তরের কমান্ডারকে হারিয়ে হামাস এখন তীব্র নেতৃত্ব সংকটের মুখোমুখি। মহম্মদ ওদেহ ছিলেন বেঁচে থাকা শীর্ষ সামরিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান মুখ। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে হামাসের রণকৌশল এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়সড় ধাক্কা খেল। অন্যদিকে, একের পর এক সেনাপ্রধানের মৃত্যুতে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এই সফল সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল ও হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।