আইনি লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনের বড় জয়, এসআইআর প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বৈধ এবং সংবিধানসম্মত বলে রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো বেআইনি উপাদান নেই। ফলে দেশজুড়ে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এসআইআরের কাজ চলছিল, তা একইভাবে জারি থাকবে। বিরোধী দলগুলোর আপত্তির মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বিরোধীদের আপত্তি
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন বেআইনিভাবে এই কাজ করছে— এমন অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিরোধীদের দাবি ছিল, এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি সঠিক নিয়ম মেনে হচ্ছে না, তাই অবিলম্বে এসআইআরের কাজে স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। মূলত এই আইনি চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করেই সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হয়, যার চূড়ান্ত রায় এল বুধবার।
আদালতের যুক্তি ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
শীর্ষ আদালত বিরোধীদের সব অভিযোগ যুক্তি সহকারে খারিজ করে স্পষ্ট করেছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনে নির্ধারিত সাধারণ ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিকে বাতিল বা বদলে দেওয়া হচ্ছে না। আইন নিজেই নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো সময় ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা করার এবং সেই কাজের পদ্ধতি নির্ধারণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাধারণ প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা আলাদা বলেই একে কোনোভাবেই বেআইনি বলা চলে না। ভোটার তালিকায় নাম থাকা নাগরিকত্বের প্রাথমিক স্বীকৃতি হলেও, প্রয়োজনে স্বচ্ছ ও ন্যায্য পদ্ধতি অনুসরণ করে আইন মেনে তা যাচাই করার সম্পূর্ণ এক্তিয়ার কমিশনের রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সময় নির্দিষ্ট নথিপত্র চাওয়া বা তা নির্ধারণ করার ক্ষমতাও সম্পূর্ণ আইনি।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ার পথ আরও মসৃণ ও বাধাহীন হলো। একই সঙ্গে আইনগত বৈধতা পাওয়ায় ভবিষ্যতে যেকোনো নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে পারবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করবে।