উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ, বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ বিজেপি!

‘মানুষকে লাঠি হাতে রাস্তায় নামতে হবে’—সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন শোরগোল। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবিতে এবার সরাসরি বীরভূমের পুলিশ সুপারের (SP) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অরিন্দম সাহা। একজন পেশাদার ও অভিজ্ঞ আইনজীবী হয়েও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কীভাবে প্রকাশ্য মঞ্চে এমন উস্কানিমূলক কথা বলতে পারেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বক্তব্যকে ‘সংবিধানবিরোধী’ আখ্যা ও তীব্র সমালোচনা
লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর বিজেপি নেতা অরিন্দম সাহা সিপিএমের এই প্রবীণ নেতার মানসিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা উগরে দিয়েছেন। তাঁর মতে, একজন দেশের প্রথম সারির আইনজীবী হিসেবে আইনের শাসন বজায় রাখার বার্তা দেওয়ার পরিবর্তে মানুষকে হিংসার পথে প্ররোচিত করছেন বিকাশবাবু, যা সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী। ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতার কটাক্ষ, “বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য নিজেকে সব থেকে বেশি শিক্ষিত মনে করেন, আর দেশের বাকি সাধারণ মানুষকে সব গাধা বা বোকা ভাবেন। উনি নিজে আইনজীবী হয়ে কীভাবে এই ধরনের হিংসাত্মক কথা বলতে পারেন?”
আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বীরভূমের জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জমা পড়া এই অভিযোগপত্রটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একজন শীর্ষ স্তরের বাম নেতার মুখে ‘লাঠি হাতে রাস্তায় নামা’-র মতো বার্তা প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হতে পারে। তবে এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপির এই আইনি তৎপরতা বীরভূম তথা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক তরজাকে আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিল।
এক ঝলকে
- সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বীরভূমের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অরিন্দম সাহা।
- ‘মানুষকে লাঠি হাতে রাস্তায় নামতে হবে’—বিকাশবাবুর এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও উস্কানিমূলক বলে দাবি করা হয়েছে।
- একজন দায়িত্বশীল আইনজীবী হয়েও কীভাবে তিনি মানুষকে এমন বার্তা দিতে পারেন, তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ওই বিজেপি নেতা।
- লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে বীরভূম জেলা পুলিশ।