সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ধাক্কা তৃণমূলের! ‘এসআইআর’ ইস্যুতে সরব শাসকদল

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘এসআইআর’ (SIR) সংক্রান্ত হাইপ্রোফাইল বিতর্কে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে এক বড়সড় মোড় এল রাজ্য রাজনীতিতে। দেশের শীর্ষ আদালতের এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকায় এসআইআর-এর বৈধতা নিয়ে চলা এই আইনি লড়াইয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ সামনে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে কোণঠাসা করতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী শিবির।
তৃণমূলের নৈতিক পরাজয়, দাবি বিরোধীদের
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ‘এসআইআর’ বা সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত বিষয়টিতে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, তা শাসকদলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আদালতের এই রায়ের পরপরই বিরোধীরা তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শুরু করেছেন। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এতদিন যে তথ্য দিয়ে নিজেদের সাফাই গাইছিল বা বিরোধীদের বক্তব্যকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। বিরোধীদের স্পষ্ট বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ কেবল আইনি জয় নয়, বরং তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থানের এক চরম নৈতিক পরাজয়।
দলের অন্দরে অস্বস্তি, পরবর্তী কৌশলের খোঁজে ঘাসফুল শিবির
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলের অন্দরে ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই রায় নিয়ে যে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা মানছেন খোদ ঘাসফুল শিবিরের একাংশই। ক্ষমতাচ্যুতির পর রাজ্য জুড়ে একের পর এক পুরবোর্ড ভাঙন এবং দলত্যাগের হিড়িকের মাঝে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ শাসকদলকে আরও বেশি ব্যাকফুটে ঠেলে দিল।
আগামী দিনে চাপ আরও বাড়াবে বিরোধী পক্ষ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই রায়ের রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিরোধীরা আসন্ন দিনগুলিতে তৃণমূলকে আরও কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে। বিশেষ করে আসন্ন পুরভোট ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মুখে এই রায়কে হাতিয়ার করে রাজ্য জুড়ে বড়সড় আন্দোলনে নামার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে বিরোধী শিবির। এই আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।