অগ্নিমিত্রার উদ্যোগে স্বপ্ন দেখছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা! বঞ্চনার অবসান ঘটাতে নবান্নে বিশেষ বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার সমাজের প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। এবার তৃতীয় লিঙ্গের (Transgender) মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে সরাসরি বিশেষ উদ্যোগ নিলেন সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ইতিমধ্যেই এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রাথমিক বৈঠক সেরেছেন তিনি। মন্ত্রীর এই আকস্মিক তৎপরতায় বহুদিন ধরে অন্ধকারে থাকা এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সমাজ নতুন করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচার আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাঁদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সমাজে তাঁদের প্রতি হওয়া যাবতীয় বৈষম্য দূর করাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। রাজ্যের এই সংক্রান্ত নোডাল সংস্থা ‘গরিমা গৃহ’-এর অধিকর্তা রঞ্জিতা সিনহার সঙ্গে এই বিষয়ে বিশেষ আলোচনা করেছেন সমাজকর্মী পাপড়ি চট্টোপাধ্যায়। আলোচনা থেকে মূলত উঠে এসেছে, কীভাবে নতুন সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী প্রকল্পের সুফল এই সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়।
সহানুভূতির চেয়ে অধিকারের লড়াই
সমাজের মূল স্রোতে ফেরার লড়াইটা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য বরাবরই অত্যন্ত কঠিন। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহল ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য:
- মর্যাদার লড়াই: অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি নথিপত্র তৈরি করা বা দৈনন্দিন জীবনে তাঁদের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে যে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়, তা আইনিভাবে বন্ধ করাই এখন নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
- অধিকার প্রতিষ্ঠা: অগ্নিমিত্রা পালের এই বৈঠক কেবল মৌখিক সহানুভূতির জায়গা থেকে নয়, বরং তাঁদের আইনি অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বড় ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
- দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ: এই সম্প্রদায়ের যোগ্য মানুষজন যাতে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ কাজ পেতে পারেন, তা নিয়ে সরকারের তরফে বিশেষ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উজ্জ্বল দিগন্তের আশায় প্রান্তিক সমাজ
তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরা এখন মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর সরকার যদি এই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অটল থাকে, তবে সমাজে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত হবে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই ‘সচেষ্ট’ ভূমিকা আগামী দিনে রাজ্যের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এক নতুন ও উজ্জ্বল দিগন্ত খুলে দিতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।