দলের অন্দরে তোলাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ রুখতে কড়া দাওয়াই বিজেপির! আপাতত বন্ধ তৃণমূল থেকে যোগদান পর্ব

দলের অন্দরে তোলাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ রুখতে কড়া দাওয়াই বিজেপির! আপাতত বন্ধ তৃণমূল থেকে যোগদান পর্ব

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দলের রাশ শক্ত রাখতে এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবার কড়া অবস্থান নিল শাসকদল বিজেপি। তোলাবাজি, দুর্নীতি বা কোনো ধরনের দলবিরোধী কাজ করলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সোনারপুরে আয়োজিত বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার এক গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বয়ং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য উপস্থিত থেকে এই কড়া বার্তা দেন।

শৃঙ্খলাভঙ্গে ‘জিরো টলারেন্স’, নজরদারিতে ১৩ জনের কোর কমিটি

দলীয় সূত্রে খবর, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপির কিছু নিচুতলার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আসছিল রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, জেলা স্তরে দলের সংগঠনকে পরিচালনা করতে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ১৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী ‘কোর কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে জেলার শীর্ষ পদাধিকারী ছাড়াও রাজ্য স্তরের নেতা ও স্থানীয় বিধায়কেরা রয়েছেন। কমিটির মূল কাজ হবে নতুন সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা এবং দলের অন্দরে কড়া নজরদারি চালানো।

আপাতত বন্ধ দলবদল, দরজা বন্ধ তৃণমূল নেতাদের জন্য

এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগদানের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বহু তৃণমূল নেতা, পঞ্চায়েত প্রধান এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন।

তবে দলের পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মীদের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার মাস কোনো স্তরেই নতুন করে কোনো যোগদান পর্ব চালানো যাবে না। অর্থাৎ, সুবিধাবাদী ও দলবদলু নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনই দলত্যাগের অপেক্ষায় থাকা তৃণমূল শিবিরের একাংশের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *