মানসিক চাপ কমাতে এবার পুলিশের ‘মিউজিক থেরাপি’! দীর্ঘ ডিউটির ধকল সামলাতে নবান্নে অভিনব প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিনরাত এক করে ডিউটি, তার ওপর তীব্র কর্মী সঙ্কট— সব মিলিয়ে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ ক্রমশ পাহাড়প্রমাণ হয়ে উঠছে। পুলিশকর্মীদের এই মানসিক ক্লান্তি দূর করতে এবং কাজের দক্ষতা বজায় রাখতে এবার এক অত্যন্ত অভিনব ও সংবেদনশীল উদ্যোগ নিতে চলেছে প্রশাসন। পুলিশ মহলের এই মানসিক অবসাদ ও স্ট্রেস কমাতে এবার ‘মিউজিক থেরাপি’ (Music Therapy) চালুর একটি বিশেষ প্রস্তাব জমা পড়েছে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে।
১৩-১৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ডিউটি, তলানিতে মানসিক স্বাস্থ্য
পুলিশ সূত্রে খবর, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় বর্তমানে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের নিচুতলার কর্মীদের দিনে গড়ে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করতে হচ্ছে। উৎসব-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা— যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে একটানা এই ম্যারাথন ডিউটি করার ফলে পুলিশকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পারিবারিক জীবনে সময় না দিতে পারা এবং চরম শারীরিক ক্লান্তির কারণে তাঁদের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও মেজাজও প্রভাবিত হচ্ছে। এই গুরুতর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই নবান্নে এই নতুন ব্লু-প্রিন্ট পাঠানো হয়েছে।
মেগা নিয়োগের পাশাপাশি সুরের মূর্ছনায় ‘স্ট্রেস রিলিজ’
নবান্নে জমা পড়া এই প্রস্তাবে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে:
- বিপুল পুলিশ কর্মী নিয়োগ: কর্মী সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের জন্য কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে খুব দ্রুত বড়সড় স্তরে নতুন কনস্টেবল ও আধিকারিক নিয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু করার আর্জি জানানো হয়েছে।
- থানায় থানায় মিউজিক থেরাপি: ডিউটির ফাঁকে বা অবসরে পুলিশকর্মীদের মনকে শান্ত ও চাঙ্গা রাখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘মিউজিক থেরাপি’র সাহায্য নেওয়া হবে। হালকা ও মন ভালো করা সুরের মাধ্যমে তাঁদের ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা হবে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, পুলিশকর্মীরা সুস্থ ও হাসিখুশি থাকলে সাধারণ মানুষও তাঁদের কাছ থেকে আরও ভালো পরিষেবা পাবেন। নবান্ন এই অভিনব প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিলে খুব শীঘ্রই রাজ্যের থানা ও পুলিশ লাইনে সুরের ছোঁয়া মিলতে পারে।