৭ দিনের ডেডলাইন, না ভাঙলে চলবে বুলডোজার! অবৈধ নির্মাণ রুখতে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ জেলাশাসকের

৭ দিনের ডেডলাইন, না ভাঙলে চলবে বুলডোজার! অবৈধ নির্মাণ রুখতে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ জেলাশাসকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির পর এবার খোদ বাংলাতেও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার নীতি’র কড়া প্রয়োগ শুরু করল নতুন প্রশাসন। বর্ধমান শহরে অবৈধ বহুতল ভাঙার কাজ শুরু করার পর এবার জেলাজুড়ে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলল জেলা প্রশাসন। তেজগঞ্জে একটি বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার গুসকরা, কালনা এবং কাটোয়ার মতো পুর এলাকাগুলিতেও এই বিশেষ অভিযান চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগারওয়াল স্পষ্ট ভাষায় সমস্ত পুর কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের এই বিষয়ে আপসহীন ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

৭ দিনের চরম সময়সীমা, অমান্য করলেই পুরসভার বুলডোজার

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণকারীদের দাপট রুখতে এবার এক নতুন ও কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় অবৈধ বা নকশা-বহির্ভূত নির্মাণের হদিশ মিললে, সংশ্লিষ্ট ভবন বা জায়গার মালিককে প্রথমে পুরসভার তরফ থেকে একটি আইনি নোটিস পাঠানো হবে। নোটিস পাওয়ার পর নিজের খরচে সেই বেআইনি অংশটি ভেঙে ফেলার জন্য মাত্র ৭ দিনের সময় দেওয়া হবে। এই নির্দিষ্ট চরম সময়সীমার (Deadline) মধ্যে যদি মালিক নিজে থেকে সেই নির্মাণ না সরান, তবে প্রশাসন আর কোনো অপেক্ষা করবে না। পুরসভা সরাসরি বুলডোজার নামিয়ে সেই অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেবে এবং এই ভাঙার পুরো খরচও উশুল করা হবে ওই সংশ্লিষ্ট মালিকেরই পকেট থেকে।

গুসকরা, কালনা ও কাটোয়ায় ছড়াল তীব্র আতঙ্ক

তেজগঞ্জের ঘটনার পর জেলাশাসকের এই নতুন নির্দেশে কার্যত ঘুম উড়েছে জেলার প্রমোটার চক্র ও বেআইনি নির্মাণকারীদের। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানের জেরে গুসকরা, কালনা ও কাটোয়া পুরসভা এলাকায় ইতিউতি গজিয়ে ওঠা অবৈধ বহুতল ও দোকানদারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, শহরের নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এই বুলডোজার অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে। কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এখানে বরদাস্ত করা হবে না বলেও নবান্নের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *