অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজকীয় আতিথেয়তা মালদহের হোল্ডিং সেন্টারে!

অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করলেও আতিথেয়তায় কোনো কমতি নেই। মালদহের নতুন হোল্ডিং সেন্টারে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশিদের জন্য চমত্কার থাকা-খাওয়া ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণত অনুপ্রবেশকারীদের আটকে রাখার জায়গাগুলোতে কড়াকড়ি দেখা গেলেও, উত্তরবঙ্গের এই প্রথম হোল্ডিং সেন্টারে ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশে পুশব্যাকের আগে পর্যন্ত এই ‘বিদেশি’ অতিথিদের সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর জেলা প্রশাসন।
পাকা ভবনে রাজকীয় মেনু ও আধুনিক পরিষেবা
মালদহের ইংলিশবাজার শহর সংলগ্ন বাগবাড়ির চন্দনপার্কে অবস্থিত একটি স্বনির্ভর দলের বিপণন কেন্দ্রের পাকা ঝাঁ চকচকে ভবনে এই সেন্টারটি চালু করা হয়েছে। এখানকার প্রতিটি ঘরে রয়েছে একাধিক সিলিং ফ্যান এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। খাওয়াদাওয়ার তালিকায় রয়েছে এলাহি আয়োজন। প্রতিদিনের মেনুতে থাকছে সরু চালের ভাত, দেশি গমের রুটি, মাছ, মাংস ও ডিম। শিশুদের জন্য দিনে চারবার দুধ ও বেবি ফুডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু খাবারই নয়, তাঁদের দেওয়া হয়েছে নতুন পোশাক, স্নানের জন্য সুগন্ধি সাবান ও শ্যাম্পু। রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ওপর। মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন যৌথভাবে এই উন্নত মানের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে।
কড়া নিরাপত্তা ও পুশব্যাকের প্রস্তুতি
মানবিকতার খাতিরে এই এলাহি আয়োজন করা হলেও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা হয়নি। চন্দনপার্কের এই সেন্টারের সুরক্ষায় মোতায়েন রয়েছেন তিনজন পুলিশ আধিকারিক, এক ডজন পুলিশ কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। পুরো এলাকা রাতভর হ্যালোজেন আলোয় আলোকিত থাকে এবং সিসি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে এই সেন্টারে নতুন কোনো অনুপ্রবেশকারীকে আনা হয়নি; ৩ জন মহিলা ও ৬ জন শিশু-বালকসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তরের চূড়ান্ত রিপোর্টের পরই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।