জুলাই মাসেই বঙ্গে মিলবে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড, শুরু হলো নাম নথিভুক্তকরণ

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তৎপর নতুন সরকার। আগামী জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের স্বাস্থ্য কার্ড হাতে পেতে চলেছেন। বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। আগামী মাসের ৮ তারিখ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সঙ্গে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।
শুরু হয়েছে রেজিস্ট্রেশন ও বিপুল আর্থিক বরাদ্দ
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণের জন্য অনলাইন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরেই কেন্দ্রের কাছ থেকে ৯৭৬ কোটি টাকার আর্থিক অনুমোদন পেয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রাথমিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ৮ তারিখ আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলেই কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে। জুলাই মাসের মধ্যে উপভোক্তাদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারতের সমন্বয়
রাজ্যের বহু মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল, কেন্দ্রের এই প্রকল্পের কঠোর যোগ্যতার শর্তাবলীর কারণে বর্তমান স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের উপভোক্তারা বঞ্চিত হবেন কি না। এই আশঙ্কা দূর করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সমস্ত উপভোক্তাই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন। সরকার সেই অনুযায়ী বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
যতক্ষণ না আয়ুষ্মান ভারতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ও কার্ড দেওয়ার কাজ শেষ হচ্ছে, ততদিন নাগরিকরা বর্তমান স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সমস্ত সুবিধা পেতে থাকবেন। তবে কোনো পরিবার বা ব্যক্তি আয়ুষ্মান ভারতের ফ্যামিলি কার্ড বা ইন্ডিভিজুয়াল কার্ড পেয়ে গেলে, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবেন।
প্রভাব ও সুবিধা
এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি বড়সড় ইতিবাচক বদল আসতে চলেছে। কেন্দ্রের এই চিকিৎসা বিমা চালু হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ রাজ্যের বাইরেও দেশের যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন, যা আগে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে সীমিত ছিল। রাজ্য ও কেন্দ্রের এই যৌথ উদ্যোগের ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমজনতার বড়সড় আর্থিক সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।