কাটমানি ফেরত চেয়ে প্রধানের স্বামীকে মহিলাদের চড়-থাপ্পড়, উত্তপ্ত রায়দিঘি!

কাটমানি ফেরত চেয়ে প্রধানের স্বামীকে মহিলাদের চড়-থাপ্পড়, উত্তপ্ত রায়দিঘি!

আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে উপভোক্তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি। বুধবার রায়দিঘি বিধানসভার কৌতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামীকে ঘিরে ধরে চড়-থাপ্পড় মারলেন বিক্ষুব্ধ মহিলারা। কাটমানির টাকা ফেরত চাওয়ার দাবিতে গ্রামবাসীদের এই মারমুখী মেজাজের জেরে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বাপ্পা হালদার। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।

প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৌতলা পঞ্চায়েতের প্রধান যমুনা হালদার হলেও প্রশাসনের অলক্ষ্যে পঞ্চায়েতের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করতেন তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল নেতা বাপ্পা হালদার। অভিযোগ, সম্প্রতি আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হতেই প্রকৃত উপভোক্তাদের বড় অংশকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যাদের পাকা বাড়ি বা উপযুক্ত সামর্থ্য রয়েছে, টাকার বিনিময়ে তাদেরই ঘর পাইয়ে দিয়েছেন প্রধানের স্বামী। অন্যদিকে, ঘর পাওয়ার তালিকায় নাম থাকা দরিদ্র গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ঘরপিছু ৫ হাজার টাকা করে কাটমানি আদায় করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। টাকা দিয়েও ঘর না পাওয়া কিংবা ঘর পেলেও জোরপূর্বক টাকা কেড়ে নেওয়ার এই ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল এলাকায়।

টাকা ফেরতের দাবিতে চড়াও গ্রামবাসীরা, ফেলে পালালেন স্কুটি

বুধবার কৌতলা ১৬৬ নম্বর বুথ সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বাপ্পা হালদারকে দেখতে পেয়েই পথ আটকান গ্রামের মহিলারা। নেওয়া কাটমানির টাকা অবিলম্বে ফেরতের দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত মহিলারা বাপ্পা হালদারের উপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজের স্কুটিটি রাস্তায় ফেলে রেখেই কোনওরকমে এলাকা থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান অভিযুক্ত নেতা।

এই ঘটনার জেরে গ্রামীণ স্তরে আবাস যোজনার বাস্তবায়ন এবং পঞ্চায়েত স্তরের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। তৃণমূল স্তরে এই ধরণের কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রতিরোধ ভবিষ্যতে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *