ক্রিস গেইলকে টপকে আইপিএলের নতুন ‘বস’ ১৫ বছরের বৈভব!

আইপিএলের মঞ্চে জন্ম নিল এক নতুন ইতিহাস। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেটের রথী-মহারথীদের পেছনে ফেলে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করলেন রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএল ২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ১৪ বছরের পুরনো এক অনন্য রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এই কিশোর ব্যাটার। ২০১২ সালে ক্রিস গেইলের গড়া এক মরশুমে সর্বোচ্চ ৫৯টি ছক্কার রেকর্ড টপকে বৈভব এখন ৬১টি ছক্কার মালিক। একইসঙ্গে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এক মরশুমে ৬০০ রান করার গৌরবও অর্জন করেছেন তিনি, যা ইতিপূর্বে ২০১৮ সালে ঋষভ পন্থের দখলে ছিল।
রেকর্ড ভাঙার নেপথ্য কারণ
মহারাজা যাদবেন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মরণ-বাঁচন ম্যাচে টসে জিতে রাজস্থানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। চলতি মরশুমে আগের দুটি সাক্ষাতেই হায়দরাবাদের কাছে হারতে হয়েছিল রাজস্থানকে, যা দলের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছিল। তবে বৈভব সূর্যবংশী ক্রিজে আসতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। কোনো রকম জড়তা না রেখে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। বোলারদের লাইন-লেন্থকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বৈভবের এই নির্ভীক ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মানসিকতাই তাকে ক্রিস গেইল (৫৯ ও ৫১টি ছক্কা), আন্দ্রে রাসেল (৫২টি ছক্কা) কিংবা জস বাটলারের (৪৫টি ছক্কা) মতো বিধ্বংসী ব্যাটারদের ছাড়িয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।
ক্রিকেট মহলে সম্ভাব্য প্রভাব
আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে কোনো ব্যাটারই এক মরশুমে ২০০-র ওপর স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে ৫৫০-র বেশি রান করতে পারেননি। বৈভব প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সেই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন। এই বিস্ফোরক পারফরম্যান্সের ফলে বিশ্ব ক্রিকেটে কিশোর প্রতিভাদের মূল্যায়নে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে। বৈভবের এই সাফল্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৯ বা তার চেয়েও কম বয়সী ক্রিকেটারদের ওপর বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিকাঠামো যে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটার তৈরিতে কতটা সক্ষম, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইপিএল ২০২৬-এর সেরা আবিষ্কার বৈভবের এই অতিমানবীয় ফর্ম আগামী দিনে জাতীয় দলের নির্বাচকদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।