আসানসোলে স্কুলের সুইমিং পুলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, সামার ক্যাম্পে প্রাণ গেল ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রের

গ্রীষ্মের ছুটির আনন্দ মুহূর্তে রূপ নিল বিষাদে। আসানসোলের এক নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সামার ক্যাম্প চলাকালীন সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যু হলো এক ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রের। মৃত পড়ুয়ার নাম আদ্বিক হিলারিয়ান (১১)। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা স্কুল চত্বরে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ।
ছুটির আনন্দ বদলে গেল বিষাদে
স্কুলে গরমের ছুটি থাকায় ২১ মে থেকে একটি বিশেষ সামার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল, যা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলার কথা ছিল। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলছিল। জানা গেছে, ঘটনার দিন আদ্বিক প্রথম ব্যাচেই সামার ক্যাম্পে অংশ নিতে গিয়েছিল। সুইমিং পুলে নামার আগে নিয়মমাফিক ওয়ার্মআপও করে সে। কিন্তু জলে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আচমকা অসুস্থ ও সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কাছের একটি নার্সিংহোমে এবং পরবর্তীতে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনার পর স্কুলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাঁতার কাটার সময় সেখানে পর্যাপ্ত ট্রেনার বা লাইফগার্ড উপস্থিত ছিলেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, ঈদের ছুটি থাকার কারণে সেদিন স্কুলে রক্ষী ও কর্মীদের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। তবে জলে ডুবেই আদ্বিকের মৃত্যু হয়েছে নাকি জলে নামার পর কোনো আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতা এর জন্য দায়ী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট স্কুলসহ অঞ্চলের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সামার ক্যাম্পের মতো কার্যকলাপে ট্রেনারদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিভাবক মহলেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং পুলিশি তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করছে।