১২ পাতার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জটিল ফর্ম পূরণ নিয়ে ধোঁয়াশা, জেনে নিন সমাধানের উপায়

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসীর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন বহু প্রতীক্ষিত অন্নপূর্ণা যোজনা বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের বারো পাতার বিশদ ফর্ম। ইতিমধ্যেই এই ফর্ম ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে আবেদনকারীরা ফর্ম পূরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এই বিশাল ও তথ্যবহুল ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন এবং বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা ও যাচাইকরণের কড়াকড়ি
এবারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্মে আবেদনকারীদের কেবল নিজেদের মৌলিক তথ্য দিলেই চলবে না, বরং পুরো পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিতে হবে। ফর্মে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি কোড এবং রেশন কার্ডের বিবরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি পরিবারের কারও স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে কি না, কেউ কোথাও কর্মরত কি না এবং পরিবারের বার্ষিক আয় কত, তা স্পষ্ট জানাতে হবে। নাগরিকের জীবনযাত্রার মান যাচাইয়ের জন্য পরিবারে চারচাকা গাড়ি কিংবা পাকা বাড়ি আছে কি না, এমনকি পাকা বাড়ি থাকলে তার সংখ্যাও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংক্রান্ত আবেদনের স্থিতি এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার ট্রাইবুনালে নাম বিচারাধীন থাকার মতো সংবেদনশীল আইনি তথ্যও জানতে চাইছে রাজ্য সরকার।
বিভ্রান্তি এড়াতে কার দ্বারস্থ হবেন আবেদনকারীরা
বারো পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে থাকা নানা আইনি ও প্রশাসনিক পরিভাষা সাধারণ মানুষের পক্ষে একা বোঝা বেশ কঠিন। সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেনি। ফলে ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে কোনো রকম সমস্যা বা বুঝতে অসুবিধা হলে আবেদনকারীদের সরাসরি ব্লক স্তরে বিডিও (BDO) অথবা সংশ্লিষ্ট পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জমাকৃত তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্য জুড়ে ৩০ দিনের একটি বিশেষ ডোর-টু-ডোর বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালাবেন অনুমোদিত সরকারি প্রশাসনিক কর্তারা। মূলত ভুয়া আবেদনকারী বাদ দিতে এবং প্রকৃত দুঃস্থদের কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেই সরকার এত কড়া ও বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে।