আজ সন্ধেই ধেয়ে আসছে তীব্র কালবৈশাখী, দক্ষিণবঙ্গের ১১ জেলায় জারি হাই অ্যালার্ট!

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কালবৈশাখী। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টির দাপট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। শুক্রবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া এবং দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। তবে এই দুর্যোগের জেরে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে, যা তীব্র গরম থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
ঝড়ের কারণ ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী বায়ুমণ্ডলীয় সিস্টেম। দক্ষিণ বিহারের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত একটি উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখা বিস্তৃত হয়েছে। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার উপর দিয়ে যাওয়া এই অক্ষরেখাটি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গে টেনে আনছে। এই বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণেই মূলত ঝড়-বৃষ্টির এই অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
১১ জেলায় তুমুল দুর্যোগের সতর্কতা
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধে বা রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের ১১টি জেলায় কালবৈশাখীর তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এই জেলাগুলির তালিকায় রয়েছে বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দুর্যোগ চলাকালীন কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে রয়েছে তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কা।
কলকাতাতেও আগামী কয়েক দিন আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত প্রায় সব জেলাতেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্রে সতর্কতা ও পরবর্তী পরিস্থিতি
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলে সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। আগামী শনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে। তবে রবিবার ও সোমবার থেকে ঝড়-বৃষ্টি পুরোপুরি কমে যাওয়ার পর আবারও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর গরমের প্রত্যাবর্তন ঘটবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।