প্রথমবার কলকাতায় ব্রিগেডে ঐতিহাসিক নমাজ

প্রথমবার কলকাতায় ব্রিগেডে ঐতিহাসিক নমাজ

দেশজুড়ে আজ বৃহস্পতিবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় পালিত হচ্ছে পবিত্র ইদ-উল-আজহা বা বকরি ইদ। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদ ও ইদগাহ ময়দানে সমবেত হয়েছেন লাখো মানুষ। এই বিশেষ দিনে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি দেশের মানুষের সুখ, সুস্বাস্থ্য ও সম্প্রীতি কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দের পরিবেশকে আরও গভীর করে তুলবে। দেশবাসীকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

ঐতিহাসিক পরিবর্তন কলকাতায়

এবারের ইদ-উল-আজহায় কলকাতার বুকে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। প্রতি বছর মহানগরের মূল জামাত রেড রোডে অনুষ্ঠিত হলেও, এবারই প্রথমবার তার পরিবর্তে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বা ময়দানে নমাজের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকেই কলকাতার ঐতিহাসিক এই ময়দানে ভিড় জমান হাজার হাজার পুণ্যার্থী। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও হায়দরাবাদসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তেও উৎসবের চেনা আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে হজরত ইব্রাহিম ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইলের ত্যাগের স্মরণে এই উৎসব ও কোরবানির রীতি পালিত হয়, যার সঙ্গে বিশ্ব মুসলিমের পবিত্র হজযাত্রার গভীর সংযোগ রয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষা

উৎসবের আবহের মধ্যেই ইদের আগের দিন আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁকে ও কাতারের জনগণকে ইদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। এই আলাপে কাতারে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাতার প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ভারত ও কাতার দুই দেশই বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও অবাধ জলপথ চলাচলের পক্ষে সওয়াল করেছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করে এবং এই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পক্ষে। এই আলোচনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে উদ্ভূত অস্থিরতা দূর হওয়ার এবং কাতার-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *