পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ধ্বংস করতেই হবে মজুত ইউরেনিয়াম

পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ধ্বংস করতেই হবে মজুত ইউরেনিয়াম

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে জটিলতা আরও বাড়ছে। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করে এবার ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। ট্রাম্পের এই বার্তার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত এই চুক্তি আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।

ইউরেনিয়াম ধ্বংসের অনমনীয় শর্ত

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানকে তাদের মজুত করা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে। তবে এই উপাদানটি সরাসরি আমেরিকার হাতেই তুলে দিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ট্রাম্পের মতে, ইউরেনিয়াম আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করে ধ্বংস করা যেতে পারে, অথবা ইরানের সাথে সমন্বয় রেখে যৌথভাবে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে ঘটনাস্থলেই কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ জায়গায় তা নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে। দিন কয়েক আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তেহরান মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।

আলোচনা বাকি ও ভূরাজনীতিতে প্রভাব

মার্কিন আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট ও কারিগরি প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো বড় ধরণের আলোচনা বাকি রয়েছে। মূল শান্তি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই পারমাণবিক আলোচনার পরবর্তী পর্বে এই উপাদানটির ভাগ্য নির্ধারণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই অনমনীয় শর্তের কারণে চুক্তির ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও উত্তেজনা নতুন করে উসকে গেছে।

এদিকে পরমাণু আলোচনার সমান্তরালে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসির) জাহাজ ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে মার্কিন সেনা হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে আইআরজিসির জাহাজ মাইন পাতছিল এবং মার্কিন বাহিনী কেবল ‘আত্মরক্ষার’ স্বার্থেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। একদিকে সামরিক সংঘাত আর অন্যদিকে পারমাণবিক শর্তের এই জোড়া চাপ ইরান-আমেরিকা সম্পর্ককে এক অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *