২২ হাজার বিলিয়নের স্বপ্ন থেকে শ্রীঘর, আদালত অবমাননায় ৬ মাসের জেল বাইজুস প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনের

এডটেক দুনিয়ার একসময়ের সম্রাট, ভারতের অন্যতম সফল স্টার্ট-আপ ‘বাইজুস’-এর প্রতিষ্ঠাতা বাইজু রবীন্দ্রনের পতন যেন রূপকথাকেও হার মানায়। একদা ২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য সামলানো এই উদ্যোক্তাকে এবার ৬ মাসের কারাবাসের সাজা শোনাল সিঙ্গাপুরের আদালত। আদালত অবমাননার গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্টার্ট-আপ ব্যবসায়িক মহলে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
সিঙ্গাপুর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রবীন্দ্রনের সম্পত্তি সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট আদেশ জারি করা হয়েছিল। সেই আইনি নির্দেশ অমান্য করার অপরাধেই তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৯০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানাও করা হয়েছে তাঁকে। একই সঙ্গে ‘বিয়ারার ইনভেস্টকো’ সংস্থার প্রকৃত মালিকানা প্রমাণে বৈধ নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন নাকি অন্য কোনো দেশে আত্মগোপন করেছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আকাশছোঁয়া উত্থান ও করোনাকালের সাফল্য
২০১১ সালে ‘থিঙ্ক অ্যান্ড লার্ন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে যাত্রা শুরু করে বাইজুস। করোনা মহামারির অবরুদ্ধ দিনগুলিতে ঘরে ঘরে অনলাইন শিক্ষা পৌঁছে দিয়ে রাতারাতি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায় এই এডটেক সংস্থাটি। ২০২২ সালে সংস্থার বাজারমূল্য বা ভ্যালুয়েশন পৌঁছায় রেকর্ড ২২ বিলিয়ন ডলারে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির স্পন্সর হওয়া থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন আকর্ষণ, সবকিছুই রবীন্দ্রনকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
পতনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দ্রুত উত্থানের পর থেকেই বাইজুসের অন্দরে আর্থিক অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সময়মতো অডিট রিপোর্ট পেশ না করা, বিপুল আর্থিক ঋণ এবং তহবিল তছরুপের মতো মারাত্মক সব অভিযোগ ওঠে সংস্থার বিরুদ্ধে। ১.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পর একটি অডিটেই ৪৫৮৮ কোটি টাকার লোকসান সামনে আসে। এর পর থেকেই বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ তুলতে শুরু করেন যে বাইজুস টাকা সংগ্রহ করে তা অন্যত্র লুকিয়ে রাখছে। বর্তমানে শুধু সিঙ্গাপুরে নয়, আমেরিকার ডেলাওয়ার ও নিউইয়র্কেও মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন রবীন্দ্রন।
এই সাজার ফলে ভারতীয় স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমে কর্পোরেট গভর্নেন্স বা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। আগামী দিনে বড় স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলিতে পুঁজি বিনিয়োগের আগে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা আরও অনেক বেশি সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন।