ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া নিয়ে ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, তাৎক্ষণিক অন্তর্ভুক্তির পথ বাতলে দিল শীর্ষ আদালত

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াটি ‘আনুপাতিকতার নীতি’ বা ‘Principle of Proportionality’ মেনেই করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য এর স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রাখা, কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া নয়। তবে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের অধিকার রক্ষায় একগুচ্ছ কড়া ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
অধিকার রক্ষা ও শুনানির কঠোর নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের বিষয়টি কোনোভাবেই ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। বাদ পড়া ভোটারদের সমস্ত তথ্য, বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নোটিস ইস্যু করতে হবে এবং বাদ পড়া নাগরিকদের নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য পর্যাপ্ত শুনানির সুযোগ দিতে হবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচন বা অন্য যেকোনো নির্বাচনের আগেই এই সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক। যদি শুনানিতে আবেদনকারীর দাবি বৈধ প্রমাণিত হয়, তবে নির্বাচন কমিশনকে তৎক্ষণাৎ তার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার ও চূড়ান্ত রায়ের প্রভাব
এই রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারের সীমাও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার স্বার্থে নাগরিকত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে বৈধ অনুসন্ধান চালাতেই পারে, তবে সেটিকে কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব নির্ধারণের সমতুল্য ভাবা যাবে না। কমিশনের যে কোনো পদক্ষেপ কেবল ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়ার অর্থ এই নয় যে তার ভারতের নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে গেছে।
আইনজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে যেমন ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, ঠিক তেমনই প্রশাসনিক গাফিলতি বা ভুলের কারণে কোনো প্রকৃত নাগরিক যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তাও সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যথাযথ নোটিস, শুনানি এবং ৪ সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বিবেচনার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় গোটা প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা অনেক বৃদ্ধি পাবে।