শৈলশহরে উপচে পড়া ভিড়, পাহাড়ে ৩ ঘণ্টার পথ পেরোতে লাগছে ৭ ঘণ্টা!

দার্জিলিং ও ডুয়ার্সে এই মুহূর্তে পর্যটকদের রেকর্ড ভিড় উপচে পড়ছে। গরমের ছুটি কাটাতে সমতল থেকে দলে দলে মানুষ পাহাড়ে ছুটতেই কার্যত থমকে গিয়েছে শৈলশহরের স্বাভাবিক ছন্দ। অতিরিক্ত পর্যটক এবং যানবাহনের চাপে পাহাড়িপথে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এবং তীব্র যানজট। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, ঘুম থেকে দার্জিলিং পৌঁছানোর স্বাভাবিক ৩ ঘণ্টার রাস্তা পার করতে পর্যটকদের সময় লেগে যাচ্ছে প্রায় ৭ ঘণ্টা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে পর্যটকদের নাকাল হতে হচ্ছে।
লাগামছাড়া গাড়িভাড়া ও বুকিং সংকট
এই তীব্র ভিড় এবং যানজটের সুযোগ নিয়ে পর্যটকদের পকেট কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একাংশ গাড়িচালকের বিরুদ্ধে। চাহিদা তুঙ্গে থাকায় স্বাভাবিক সময়ের ৩ হাজার টাকার গাড়িভাড়া একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায়। এই লাগামছাড়া ভাড়া বৃদ্ধির ফলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে পর্যটকদের মধ্যে। অন্যদিকে, পাহাড়ের হোটেল ও হোমস্টেগুলি সম্পূর্ণ বুকড হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন আগাম বুকিং ছাড়া আসা বহু ভ্রমণপিপাসু মানুষ। থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক পর্যটককে বাধ্য হয়ে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে হচ্ছে।
কারণ ও দূরগামী প্রভাব
গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের পাহাড়মুখী হওয়া এবং সেই তুলনায় সংকীর্ণ পাহাড়ি রাস্তার সীমিত ধারণক্ষমতাই এই চরম অচলাবস্থার মূল কারণ। আচমকা এই বিপুল পরিমাণ যানবাহনের চাপ সামলানোর মতো পরিকাঠামো না থাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার এই অভাব দূর করতে না পারলে আগামী দিনে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দার্জিলিং তার চিরচেনা আকর্ষণ হারাতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতে।