ফিরহাদকে একসঙ্গে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সুশান্ত, বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে তিনি পদত্যাগ করেননি এবং দলবদলও করেননি বলে দাবি করার পাশাপাশি এবার এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন সুশান্ত ঘোষ। তাঁর দাবি, খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি ফিরহাদ হাকিমকে একসঙ্গে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমও নাকি সবাইকে নিয়ে পদত্যাগ করার বিষয়ে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করেছিলেন। সুশান্তর এই আকস্মিক ও বিস্ফোরক দাবিতে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুশান্ত ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, আজ হয়তো ফিরহাদ হাকিম এই আলোচনার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারেন, কিন্তু এটাই বাস্তব সত্য ছিল। দলের অন্দরের এই গোপন সমীকরণ এভাবে প্রকাশ্যে চলে আসায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির। ঘটনার সত্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানামুখী চর্চা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে।
দলের অন্দরে ক্ষোভ নাকি কৌশলগত চাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুশান্ত ঘোষের এই মন্তব্য শাসক দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং নেতৃত্বের প্রতি একাংশের ক্ষোভ বা অসন্তোষকে নতুন করে সামনে এনে দিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের মতো একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগের প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার দাবিটি মোটেও হালকাভাবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। এটি দলের অন্দরে কোনো প্রচ্ছন্ন ফাটল নাকি শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর একধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে।
আগামী দিনে প্রভাব ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক জলঘোলা
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের ফলে আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বেশ কিছুটা বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফিরহাদ হাকিম এখন এই দাবির জবাবে কী প্রতিক্রিয়া জানান, তার ওপর অনেকখানি নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। যদি এই দাবিকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে বিতর্ক আরও দানা বাঁধে, তবে তা বিরোধী শিবিরের হাতে শাসক দলকে আক্রমণ করার নতুন অস্ত্র তুলে দেবে। একই সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের মনেও নেতৃত্বের একতা নিয়ে একধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।