বর্ষার আগেই অস্তিত্ব সংকটে কেতুগ্রাম, বাবলা নদীর পাড় কেটে দেদার মাটি লুট

আর মাত্র কয়েকটা দিন, তারপরেই আকাশ ভেঙে নামবে বর্ষা। অথচ এই চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও একশ্রেণীর অসাধু চক্রের দাপটে ঘুম উড়েছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের মৌগ্রামের বাসিন্দাদের। বর্ষার ঠিক আগে বাবলা নদীর পাড় কেটে যেভাবে দেদার মাটি লুট করা হচ্ছে, তাতে গোটা এলাকার পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বুক চিরে তৈরি করা হচ্ছে বড় বড় টানেল বা সুড়ঙ্গ, যার ফলে নদীপাড়ের একটি বিস্তীর্ণ অংশ ধসে পড়ছে।
অস্তিত্ব সংকটে গ্রাম, আতঙ্কে বাসিন্দারা
নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে নদীপাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর মূল আশঙ্কা, বর্ষা নামলেই নদীতে জলের চাপ বাড়বে। আর সেই বাড়তি জলের তোড়ে পাড় ভেঙে নদী গ্রাস করতে পারে আশেপাশের গ্রামগুলিকে। নদী সংলগ্ন মৌগ্রামসহ কেতুগ্রাম-২ ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ।
ক্ষমতার দাপট ও আইনি পদক্ষেপের দাবি
স্থানীয় সূত্রের খবর, শাসকদল তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী মাতব্বর এই বেআইনি মাফিয়ারাজ চালাচ্ছেন। দিনের পর দিন বুক ফুলিয়ে এই লুটপাট চললেও এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে নিজের ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে এখন আর চুপ করে থাকতে রাজি নন কেতুগ্রামের বাসিন্দারা। দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা এবং মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার বিরুদ্ধে এখন তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে এলাকায়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অবিলম্বে এই বেআইনি কারবার বন্ধের দাবি তুলেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।