তৎকাল টিকিটের আড়ালে সক্রিয় কোন জাদু, সাধারণের নাভিশ্বাস হলেও এজেন্টদের হাতে কী ভাবে কনফার্ম টিকিট!

তৎকাল টিকিটের আড়ালে সক্রিয় কোন জাদু, সাধারণের নাভিশ্বাস হলেও এজেন্টদের হাতে কী ভাবে কনফার্ম টিকিট!

রেলে তৎকাল টিকিট কাটা যেন এক দুঃসাধ্য লড়াই। সাধারণ যাত্রীরা যখন কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বুকিং অপশন খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই টিকিট শেষ হতে দেখেন, তখন এজেন্টরা অনায়াসেই ‘কনফার্ম’ টিকিটের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। আর এখানেই দানা বাঁধছে রহস্য। নিয়ম অনুযায়ী যেখানে এজেন্টদের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা বা কোটা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাসের বাজারে এজেন্টদের এই ম্যাজিক ঘিরে দেশজুড়ে উঠছে প্রশ্ন।

আইনের কড়াকড়ি বনাম এজেন্টদের চাল

তৎকাল টিকিটের একচেটিয়া কালোবাজারি রুখতে রেল মন্ত্রকের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রতিদিন তৎকাল বুকিংয়ের উইন্ডো খোলার পর প্রথম ৩০ মিনিট অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টরা কোনও টিকিট কাটতে পারেন না। এসি কামরার ক্ষেত্রে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা এবং নন-এসি কামরার ক্ষেত্রে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এজেন্টদের বুকিংয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এছাড়া, গত বছরের জুলাই মাস থেকে পিআরএস কাউন্টার এবং অনুমোদিত এজেন্টদের মাধ্যমে তৎকাল কাটার ক্ষেত্রে যাত্রীর মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাচাইকরণও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত আইনি কড়াকড়িকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এজেন্টরা টিকিটের গ্যারান্টি দিচ্ছেন, তা নিয়ে সাধারণ মহলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

নেপথ্যের প্রযুক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাধারণ যাত্রীদের তুলনায় এজেন্টদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে উচ্চপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন থার্ড-পার্টি টুলের ব্যবহার। সাধারণ মানুষের যেখানে নাম, বয়স ও গন্তব্যের তথ্য পূরণ করতে প্রায় এক মিনিট সময় চলে যায়, সেখানে এজেন্টরা ‘অটো ফিল’ টুল এবং আগে থেকে তৈরি রাখা ‘মাস্টার লিস্ট’ ব্যবহার করে মাত্র ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ফর্ম পূরণ করে ফেলেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় হাই-স্পিড ইন্টারনেট এবং ক্যাপচা বাইপাসের মতো অনৈতিক সফটওয়্যার প্রযুক্তি।

যদিও এই অবৈধ স্ক্রিপ্ট এবং অটোমেশন রুখতে আইআরসিটিসি বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও অ্যান্টি-বট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তবুও এই চক্রকে পুরোপুরি দমানো যায়নি। এর ফলে সাধারণ যাত্রীরা ন্যায্য মূল্যে টিকিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে এজেন্টদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে গিয়ে আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এজেন্টদের এই অনৈতিক আধিপত্যের কারণে আইআরসিটিসি-র টিকিট বুকিং প্রক্রিয়ার সামগ্রিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *