‘বিডিও অফিসে জানিয়েছিলাম, পাত্তা দেয়নি’, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূল নেতা রাকিবুল

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বেনিয়ম, দায় এড়াতে তৃণমূলের অন্দরেই দোষারোপের পালা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মুর্শিদাবাদের রাধারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা রাকিবুল শেখের বিরুদ্ধে এই প্রকল্পের ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় শাসকদলের অস্বস্তি চরমে উঠেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দুর্নীতির দায় নিজের কাঁধে না নিয়ে তিনি সরাসরি দলের দিকেই আঙুল তুলেছেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু রাকিবুল ও দলীয় ভূমিকা
অভিযোগ, রাকিবুল শেখ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা গ্রহণ করে আসছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাকিবুলের দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা আসার বিষয়টি তিনি প্রথমে জানতেন না। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় বিডিও অফিস এবং প্রশাসনকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো দলেরই কিছু সদস্য তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে, সরকারি টাকা নিতে কোনো সমস্যা নেই। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য দল ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের বিরোধী শিবির তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিপূর্বেই অভিযোগ করেছিলেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বহু অযোগ্য ব্যক্তি এবং তৃণমূল নেতাদের নাম উপভোক্তা তালিকায় রয়েছে। বিরোধীদের মতে, এটি প্রশাসনিক নজরদারির চরম ব্যর্থতা এবং ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেও পুরুষ উপভোক্তা বা ভুয়ো পরিচয়ে ভাতা নেওয়ার অভিযোগ আসছে।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
শাসকদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করা হলেও, বিরোধীরা পুরো প্রকল্পের স্বাধীন অডিট দাবি করেছে। প্রশাসনের একাংশের দাবি, তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, যেভাবে শাসকদলের নেতারাই দুর্নীতির দায় একে অপরের ওপর চাপাচ্ছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকল্পের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।